ছোট ভাইয়ের দাবি, রাত তিনটে নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন এবং দরজা খুলে দিয়েছিলেন তাঁর মেজদা। আবার মেজ ভাইয়ের বক্তব্য, তিনি জানেনই না গত বুধবার রাতে কখন তাঁর ছোট ভাই বাড়ি ফিরেছেন। গার্ডেনরিচের রামনগর লেনে নিজের ফ্ল্যাটে নৃশংস ভাবে খুন হওয়া বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের মেজ ও ছোট ছেলের বয়ানে এমনই কিছু অসঙ্গতি পেয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সময়ে বা তার ঠিক আগে বৃদ্ধার ছেলেরা কে, কোথায় ছিলেনতা জানতে গিয়েই পুলিশ দেখছে, জহুরা খাতুনের মেজ ছেলে আহমেদউল্লা ও ছোট ছেলে শামিমউল্লার বক্তব্য মিলছে না।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, বৃদ্ধার খুনের পিছনে তাঁর ঘনিষ্ঠ কারও হাত রয়েছে। জহুরার পাশের ফ্ল্যাটেই সপরিবার থাকেন তাঁর মেজ ছেলে আহমেদউল্লা ও ছোট ছেলে শামিমউল্লা। পাশের অন্য এক আবাসনে থাকেন বৃদ্ধার বড় ছেলে রহমতউল্লা। রহমতউল্লার মেয়ে ফারিয়াই বুধবার রাতে ঠাকুরমার সঙ্গে শুয়েছিল। আততায়ীরা ওই কিশোরীকেও হত্যার চেষ্টা করে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, ফারিয়া তাদের চিনে ফেলায় তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ওই কিশোরী এখন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি।
শনিবার রাতে গার্ডেনরিচ থানায় তলব করা হয় নিহত বৃদ্ধার তিন ছেলেকে। তখনই মেজ ও ছোট ছেলের বয়ান না মেলায় তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ে। ময়না-তদন্তের রিপোর্ট থেকে পুলিশ জেনেছে, জহুরা খাতুনকে খুন করা হয় বৃহস্পতিবার ভোর চারটে নাগাদ। তাঁর দেহ উদ্ধারের পরে তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা প্রথমেই বৃদ্ধার মেজ ছেলে আহমেদউল্লার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পুলিশকে জানান, রোজের মতো বুধবার রাত ১টা নাগাদ মায়ের ফ্ল্যাটের দরজার তালা বাইরে থেকে বন্ধ করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের কাছেই ওই ফ্ল্যাটের চাবি থাকার কথা। কিন্তু তাঁরা যে চাবি পুলিশকে জমা দিয়েছেন, তা দিয়ে জহুরার ফ্ল্যাটের দরজায় লাগানো তালা খোলা সম্ভব নয় বলে পুলিশের দাবি। কিন্তু ওই রাতে বৃদ্ধার ছোট ছেলে শামিমউল্লার বাড়ি ফিরতে রাত তিনটে হল কেন?
পুলিশ সূত্রের খবর, শামিমউল্লার গাড়ির ব্যবসা আছে। বুধবার রাতে একটি গাড়ি মাঝরাস্তায় খারাপ হয়ে যাওয়ায় আটকে যাওয়াতেই ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি বলে পুলিশকে জানান তিনি। এমনকী ওই যুবকের বক্তব্য, প্রায় ভোর হওয়ার সময়ে বাড়ি ফিরে তিনি আর ঘুমোননি, বাকি রাতটুকু টিভি দেখে কাটিয়ে দেন।
তদন্তকারীদের কেউ কেউ বলছেন, জহুরা ও তাঁর নাতনি ফারিয়ার সঙ্গে আততায়ীদের ধস্তাধস্তি হয়েছিল সে প্রমাণ ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছে। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, “জহুরা ও তাঁর দুই ছেলের ফ্ল্যাটের যা দূরত্ব, তাতে ছোট ছেলে জেগে থাকলে ওই ধস্তাধস্তির আওয়াজ তাঁর শুনতে পাওয়ার কথা। কিন্তু শামিমউল্লা জানিয়েছেন, কোনও আওয়াজ তিনি শুনতে পাননি।” সব মিলিয়ে তাই গার্ডেনরিচে বৃদ্ধা খুনের রহস্য পুলিশের কাছে আরও ঘোরালো।