Advertisement
E-Paper

ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে দমকলের গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত ভাই-বোন

খুব বায়না ছিল পুজোয় নতুন জামা নয়, নতুন সাইকেল চাই। ছেলেকে নতুন সাইকেল কিনে দেওয়ার সামর্থও ছিল না। তবু পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করেছে বলে একটা সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন বেলঘরিয়ার আড়িয়াদহ রামকৃষ্ণ পল্লির সন্তোষ সাউ। সপ্তমীর সকালে সেই সাইকেলে দিদিকে চাপিয়ে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিল সন্তোষবাবুর আট বছরের ছেলে সৌমিক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৫ ১৮:২০

খুব বায়না ছিল পুজোয় নতুন জামা নয়, নতুন সাইকেল চাই। ছেলেকে নতুন সাইকেল কিনে দেওয়ার সামর্থও ছিল না। তবু পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করেছে বলে একটা সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন বেলঘরিয়ার আড়িয়াদহ রামকৃষ্ণ পল্লির সন্তোষ সাউ। সপ্তমীর সকালে সেই সাইকেলে দিদিকে চাপিয়ে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিল সন্তোষবাবুর আট বছরের ছেলে সৌমিক। পিছন থেকে দমকলের ঘন্টা শুনে রাস্তার ধারে সরতেও চেয়েছিল। কিন্তু একটা রিকশা পাশে চলে আসায় সামাল দিতে পারেনি। দমকলের গাড়িটির চাকার নিচে পড়ে যায় সৌমিক ও তার দিদি পায়েল। পায়েল স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসায় সাড়া দিলেও সৌমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডান পা’টা পিষে গিয়েছে।

ঘটনাস্থল, ফিডার রোডের রামানন্দ হিন্দু স্কুলের সামনে। এ দিন সকালে ওই এলাকাতেই এ সি পাল স্ট্রিটে সিইএসসি’র একটি ফিডার বক্সে আগুন লাগে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ দমকলের একটি গাড়ি আগুন নিভিয়ে ফিরেও আসার পরেও আরও একটি গাড়ি সেখানে যায়। আগুন নিভে গিয়েছে দেখে দ্বিতীয় গাড়িটিও কামারহাটি দমকল কেন্দ্রের দিকে ফিরছিল। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় দুই ভাই -বোনকে। কিন্তু সৌমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সেখান থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করানো হয়। খবর পেয়ে কামারহাটি দমকল কেন্দ্র থেকে ফায়ার অফিসার বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও কয়েকজন দমকল কর্মী এসএসকেএম হাসপাতালে যান। প্রায় তিন ঘন্টা পরে চিকিৎসক সৌমিককে দেখেন বলে তার পরিবারের অভিযোগ। বিশ্বজিৎবাবুরাই রক্তের ব্যবস্থা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, সৌমিকের অবস্থা স্থিতিশীল না হলে অপারেশন করা সম্ভব নয়। অপারেশন হলেও পাটা বাঁচানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও সংশয় আছে। ডান পায়ের অনেকটা অংশ থেঁতলে গিয়েছে। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘‘ওর বয়সী আমারও একটা ছেলে আছে। তাই আমাদের গাড়িতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি বসে থাকতে পারিনি। আমাদের তো ছুটি নেই, ছেলেটাকে বলেছিলাম আজ ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাব। কিন্তু এই ছেলেটার কথা ভেবে পারলাম না। ওর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত আমি হাসপাতালে থাকব।’’ ছেলে-মেয়ের দুর্ঘটনার খবরে হাসপাতালে গিয়েছেন সন্তোষবাবুরাও। কিন্তু কোথায় কার সঙ্গে কথা বলতে হবে কিছুই জানা নেই। টাকা-পয়সাও বিশেষ নেই। ডাক্তার বা নার্সদের দেখলেই বারবার বলছেন, ‘‘আচ্ছা ও বাঁচবে তো? ওকে শুধু বাঁচিয়ে দিন আর সাইকেল চালাতে দেব না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy