Advertisement
E-Paper

পুলিশ পিটিয়েও অধরা বাবা-ছেলে

সেই ট্র্যাডিশন চলছেই। আলিপুর থানা এবং গোপালনগরে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের হাতে পুলিশ আক্রান্ত হলেও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়নি। উল্টে তারা আগাম জামিন পেয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম হচ্ছে না আলিপুর আদালত চত্বরে এক পুলিশকর্মীকে মারধরের ঘটনাতেও।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৩৮

সেই ট্র্যাডিশন চলছেই।

আলিপুর থানা এবং গোপালনগরে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের হাতে পুলিশ আক্রান্ত হলেও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়নি। উল্টে তারা আগাম জামিন পেয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম হচ্ছে না আলিপুর আদালত চত্বরে এক পুলিশকর্মীকে মারধরের ঘটনাতেও। এ ক্ষেত্রেও অভিযুক্ত তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। লালবাজার সূত্রের খবর, তিনটি ক্ষেত্রেই লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের নির্দেশ না থাকায় অভিযুক্তদের ধরা যাচ্ছে না।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর আলিপুরের একটি সরকারি জমিতে পাঁচিল তোলার প্রতিবাদে থানায় চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। তাদের থেকে বাঁচতে পুলিশকর্মীরা টেবিলের তলায় আশ্রয় নেন। এর পর এপ্রিলে পুরভোটের সময় গোপালনগর মোড়ে এক নির্বাচনী জনসভায় আক্রান্ত হন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নিগৃহীত হন আলিপুর থানার তৎকালীন ওসি-ও। দু’টি ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতা প্রতাপ সাহার দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও তাঁকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। ফলে তিনি জামিন নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। ১৭ ডিসেম্বর আলিপুর আদালত চত্বরে পুলিশ পেটানোর ঘটনাতেও অভিযুক্ত শাসকদলের নেতা বিপ্লব মিত্র এবং তাঁর ছেলে অয়নের গায়ে আঁচ পড়েনি।

Advertisement

পুলিশের একাংশ মনে করছে, বিপ্লববাবুও শাসকদলের নেতা। তাই এই ক্ষেত্রেও বিপ্লব ও অয়নকে গ্রেফতার না করে আগাম জামিনের সুযোগ করে দিচ্ছেন লালবাজারের কয়েক জন কর্তা। সূত্রের খবর, বিপ্লবকে ধরতে চেয়েছিল স্থানীয় থানা। কিন্তু তাতে অশান্তি হতে পারে বলে যুক্তি দেখান এক কর্তা। তাই গ্রেফতার না করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের নিচু তলার বক্তব্য, শীর্ষকর্তাদের সিদ্ধান্তহীনতার জন্যই স্থানীয় নেতাদের এই বাড়বাড়ন্ত। লালবাজারের অন্য একটি অংশের মতে, পুলিশের নিয়মবিধি অনুযায়ী যা যা করা উচিত, সেটাই করতে বলা হয়েছে থানার তদন্তকারীদের। এই নিয়ে শনিবার কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) মুরলীধর শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে চাননি।

বিপ্লববাবু অবশ্য আগাম জামিনের কথা অস্বীকার করেছেন। শনিবার ফোনে তাঁর দাবি, ‘‘আমি কোনও পুলিশকে মারিনি। এলাকাতেই আছি। অথচ আমায় পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বলছে। এটা মিথ্যে কথা।’’ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘অভিযোগকারী পুলিশ এবং তাঁর সহকর্মীরাই আমাদের মারধর করেছে। তাঁদের গ্রেফতার না করে বাঁচাতে চাইছে পুলিশ।’’

কী ঘটেছিল ১৭ ডিসেম্বর?

সে দিন ছেলে অয়নকে নিয়ে বিপ্লববাবু আলিপুর আদালত চত্বরে যান একটি রক্তদান শিবিরের কার্ড দেওয়ার জন্য। আদালতের ভিতরে তাঁদের মোটরবাইক জিআর শাখার এক পুলিশকর্মীকে ধাক্কা মারে। তার পর জিআর রুমের মূল দরজা আটকে মোটরবাইকটি দাঁড় করান বাবা-ছেলে। এই দু’টি বিষয় নিয়ে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় জিআর শাখার এক পুলিশকর্মীকে মারধর ও হুমকি দেন বিপ্লব ও অয়ন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই মোটরবাইক চেপে হাজির হন এক দল যুবক। অভিযোগ, তাঁরাও নিজেদের তৃণমূলকর্মী দাবি করে পুলিশকে হুমকি দিতে থাকেন। ওমপ্রকাশ সিংহ নামে স্থানীয় এক তৃণমূলকর্মী পুলিশকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ারও হুমকি দেন। ঘটনার পরে বিপ্লব ও অয়নের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন নিগৃহীত পুলিশকর্মী। বিপ্লববাবুও দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেন।

এই টানাপড়েনের মধ্যে অবশ্য আলিপুর আদালত কাণ্ডের কুশীলবরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আলিপুর- গোপালনগরের এক বাসিন্দা জানান, গত সপ্তাহে এলাকায় একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলেন বিপ্লব মিত্র। সেখানে কলকাতা পুরসভার মেয়র থেকে শাসকদলের অনেক নেতাই উপস্থিত ছিলে

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy