চলার পথে ট্রাফিক পুলিশদের নির্দেশ দিতেন তিনি। যানজটে আটকালে সরাসরি ট্রাফিক কন্ট্রোলে ফোন করে আওড়াতেন কলকাতা পুলিশের বড় কর্তাদের নাম। দ্রুত জট ছাড়িয়ে তাঁর গাড়িকে যেতে দেওয়ার নির্দেশও থাকত। অন্যথায় বাদ যেত না বদলি করে দেওয়ার হুমকিও। তাই ওই গাড়ি দেখলেই কার্যত ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতেন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গাড়ির লালবাতিই ধরিয়ে দিল নিজেকে আইএএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেওয়া বি কে পাল অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা সৌম্য ঘোষ নামে ওই যুবককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস এ ভাবে চলার পরে হঠাৎ পুলিশের নজরে আসে ‘ডাকাবুকো’ ওই অফিসারের গাড়িতে লালবাতি লাগানো। নিয়ম অনুয়ায়ী কোনও আইএএস অফিসারের গাড়িতে লালবাতি ব্যবহারের নিয়ম নেই। এর পর থেকেই গাড়িটির উপরে নজর রাখতে শুরু করে জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ গাড়িটি চোখে পড়লে জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের ওসি অলোক সান্যাল, ট্রাফিক সার্জেন্ট অনিন্দ্য মাইতি ও প্রবীর দাস সেটিকে ধাওয়া করেন। শোভাবাজারের ক্রসিংয়ের কাছে গাড়িটি আটকান তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, আইএএস অফিসার গাড়িতে লালবাতি লাগাতে পারেন না, কিন্তু সৌম্য কেন তা ব্যবহার করছেন জানতে চাইলে পুলিশ কর্তাদের নাম করে হুমকি দিতে থাকেন ওই যুবক। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বড়তলা থানায়
নিয়ে যাওয়া হয় সৌম্যকে। তাঁর কথাতেও একাধিক অসঙ্গতি পান পুলিশ অফিসারেরা। এর পরেই জানা যায়, আদতে কোনও কাজ করেন না সৌম্য। পুলিশের দাবি, সৌম্য তাঁদের জানিয়েছেন লালবাতি লাগিয়ে পুলিশকে ‘ধোঁকা’ দেওয়াই নাকি তাঁর শখ।
ভুয়ো পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সৌম্যকে। ১৪ বছর আগে বাতিল হয়ে যাওয়া লাইসেন্স রাখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই গাড়িটির চালক সীতারাম যাদবকে। তবে গাড়িটি কার, তা জানা যায়নি। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ম্যাগনেট পদ্ধতিতে লাগানো লালবাতিটি।