Advertisement
E-Paper

ফ্ল্যাটে ডাকাতির চেষ্টা, ক্ষুর মেরে চম্পট দুই দুষ্কৃতীর

কাঠের মিস্ত্রি পরিচয়ে দরজায় কড়া নেড়েছিল মাঝবয়েসি দুই যুবক। অথচ বা়ড়ির কেউ তাদের ডাকেননি। তাই দরজা খুলেই হতচকিত হয়ে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে। ডাকাতির চেষ্টায় তাঁদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুই দুষ্কৃতী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:২৪

কাঠের মিস্ত্রি পরিচয়ে দরজায় কড়া নেড়েছিল মাঝবয়েসি দুই যুবক। অথচ বা়ড়ির কেউ তাদের ডাকেননি। তাই দরজা খুলেই হতচকিত হয়ে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে। ডাকাতির চেষ্টায় তাঁদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুই দুষ্কৃতী। তাদের ধরার চেষ্টা করতেই ক্ষুর মেরে পালায় অভিযুক্তেরা।

শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কসবার পিকনিক গার্ডেন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। সন্তোষ সরকার নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী তাঁর স্ত্রী শিবানীদেবী ও ছেলে সায়ন্তনকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না সন্তোষবাবু। পুলিশ জানায়, এ দিন সায়ন্তনবাবু অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। কলিং বেল বাজলে দরজা খুলে দেন শিবানীদেবী। দরজা খুলতে দুই যুবক নিজেদের কাঠের মিস্ত্রি বলে পরিচয় দেয়। তার পরে আচমকাই তারা শিবানীদেবীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ।

শিবানীদেবী জানান, ‘‘ওরা আমার মুখ চেপে ধরে ধাক্কা মেরে ঘরে ঢুকে পড়ে। আমি নীচে পড়ে গেলে ছেলের উপরেও ঝাঁপিয়ে পড়ে।’’ মেঝেতে পড়ে চশমা হারিয়ে যাওয়ায় আর কিছু দেখতে পাননি বলে জানান শিবানীদেবী। তবে তিনি বুঝতে পারেন, ঘরে প্রচণ্ড ধস্তাধস্তি চলছে। এর মধ্যেই তাঁদের চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজনেরা। লোকজন জড়ো হতে দেখে ওই দুই দুষ্কৃতী পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু একতলায় তাদের ঘিরে ধরেন ওই বহুতলেরই আবাসিকেরা। অভিযোগ, সেই সময়ে মরিয়া হয়ে এক যুবক পকেট থেকে ক্ষুর বার করে দু’জনের উপরে চালিয়ে দেয়। আহত হন জয় চৌধুরী ও সুব্রত দাস নামে দুই বাসিন্দা। আবাসিকেরা অল্প ক্ষণের জন্য আতঙ্কিত হয়ে পড়লে পালায় দুষ্কৃতীরা।

Advertisement

ঘটনাস্থলে আসে ডগ স্কোয়াড-সহ পুলিশ। উদ্ধার হয় একটি ব্যাগও। সায়ন্তনবাবুর তরফে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আহতদের ছেড়ে
দেওয়া হয়েছে।

এ দিন শিবানীদেবী জানান, তাঁর বাড়ির পরিচারিকা অন্য দিন সেই সময়ে বাড়িতে থাকলেও নিজের প্রয়োজনে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে যায় আগেই। তার ঘণ্টা দুয়েক পরে ফ্ল্যাটে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। পুলিশের ধারণা, পরিকল্পনা করেই ফ্ল্যাটে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা। বাড়ির পরিচারিকা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান পুলিশের।

ভরদুপুরে প্রকাশ্যে এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা জানান, বহুতলের একতলায় এক আংশিক প্রতিবন্ধী বয়স্ক নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। বহুতলের মূল দরজাও খোলা থাকে সব সময়ে। তবে এমন ঘটনা এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান আবাসিকেরা। এ বার কোনও বেসরকারি সংস্থা থেকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের কথা ভাবছেন বলে জানান বাসিন্দারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy