বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে যে চিঠি জমা পড়েছে, তাতে কোন কোন তৃণমূল বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন? স্পিকার রথীন্দ্র বসু কি আদৌ বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রতকে অনুমোদন দিয়েছেন? তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই সংক্রান্ত নথিপত্র দেখতে চেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই মর্মে স্পিকারের দফতরে চিঠিও দিয়েছেন।
স্পিকারের কাছ থেকে মোট দু’টি নথি দেখতে চেয়েছেন কুণাল। বিধানসভায় স্পিকারের দফতরের স্টেট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছে তিনি চিঠি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে সমর্থন করে তৃণমূল বিধায়কদের দেওয়া চিঠির একটি কপি তিনি দেখতে চান। কারা ঋতব্রতের সমর্থনে সই করেছেন, তা জানতে চান। এ ছাড়া, ওই চিঠি গ্রহণ করে এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে অনুমোদন দিয়ে স্পিকারের তরফে পাল্টা কোনও চিঠি যদি দেওয়া হয়ে থাকে, তার কপিও কুণাল দেখতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতেছে তৃণমূল। প্রধান বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু দলের অনেক বিধায়কই সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে বিরোধী দলেনেতা হিসাবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করে যে চিঠি স্পিকারকে দেওয়া হয়েছিল, তাতে অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন ঋতব্রত, সন্দীপন সাহারা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভা পদক্ষেপ করে এবং রাজ্য সরকার সেই তদন্তভার তুলে দেয় সিআইডি-র হাতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত মঙ্গলবার ঋতব্রত এবং সন্দীপনের নাম করে অভিযোগের কথা জানান। তার পরেই ওই দু’জনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। কিন্তু বুধবার বহিষ্কৃত সেই ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসাবে সমর্থন করে ৫৯ জন তৃণমূল বিধায়কের চিঠি জমা পড়ে স্পিকারের ঘরে। স্পিকারও সেই চিঠি গ্রহণ করেন বলে খবর। তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই কুণাল আরটিআই করলেন।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর গত ১৯ মে কালীঘাটে বিধায়কদের একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা। সেই বৈঠকে একই গাড়িতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত, কুণাল এবং সন্দীপন। সে দিনই তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছিল। ফলতায় ভোটের ময়দান থেকে কেন জাহাঙ্গির খান সরে গেলেন, তার পরেও কেন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল না, প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। এ ছাড়া, দলের কিছু সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুণালও। কিন্তু তার পর ‘বিদ্রোহীদের ত্রয়ী’র এই বন্ধনীর বাইরে চলে আসেন বেলেঘাটার বিধায়ক। কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের বিরুদ্ধে ‘কৃশাণু-বিকাশ’ জুটিতে পরিণত হন সন্দীপন এবং ঋতব্রত। তার পর থেকে তাঁরা যত কালীঘাট-বিরোধিতা করেছেন, কুণাল ততই কালীঘাটের প্রতি আস্থার বার্তা দিয়েছেন। গত ৭২ ঘণ্টায় সমাজমাধ্যমের নানা পোস্টে এবং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রতদের সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে কুণালকে। তিনিই এ বার বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবের চিঠি এবং স্পিকারের জবাব সংক্রান্ত নথি দেখতে চাইলেন।