Advertisement
২৬ মার্চ ২০২৩

পুড়ে ছাই কার্শিয়াঙের প্রাচীন হল

কেন আবার এই প্রশ্ন? পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রায় নব্বই বছরের পুরনো রাজরাজেশ্বরী হল সংস্কারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন, তা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে সেগুন ধূপি কাঠ কেনা হয়েছিল।

পোড়া ঘরেই পুজোর আয়োজন করছে কার্শিয়াং। নিজস্ব চিত্র।

পোড়া ঘরেই পুজোর আয়োজন করছে কার্শিয়াং। নিজস্ব চিত্র।

কিশোর সাহা ও প্রতিভা গিরি
শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৭ ০৪:২৭
Share: Save:

এর আগে আগুন লাগানো হয়েছিল ‘হেরিটেজ’ কার্শিয়াং রেল স্টেশনে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আগুন দেওয়া হল কার্শিয়াঙেরই রাজরাজেশ্বরী হলে, টুরিস্ট লজের রান্নাঘরে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুড়ল মিরিকের বিডিও অফিস, পূর্ত দফতরের বাংলো, দার্জিলিঙের জজবাজারে ডিএসপি-র গাড়ি। আর এই সব ঘটনার মধ্যে ফের উঠল সেই পুরনো প্রশ্ন: তবে কি ‘আন্দোলনের’ রাশ বিমল গুরুঙ্গদের হাত থেকে অনেকটাই বেরিয়ে গিয়েছে?

Advertisement

কেন আবার এই প্রশ্ন? পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রায় নব্বই বছরের পুরনো রাজরাজেশ্বরী হল সংস্কারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন, তা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে সেগুন ধূপি কাঠ কেনা হয়েছিল। হল পুড়ে গেলেও সেই কাঠের কোনও চিহ্ন বুধবার মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিপুল পরিমাণ কাঠ ঘরে মজুত থাকলে অগ্নিকাণ্ডের পরেও তার চিহ্ন মিলতই। কিন্তু হলটিতে কিছুই নেই। সব কাঠ যেন হঠাৎই অদৃশ্য!

আরও পড়ুন: চা-বাগানে সঙ্কট কাটতে অন্তত তিন বছর

এমন লুঠপাটের ঘটনা রোজই ঘটছে। আর তাতেই পুলিশের সন্দেহ, আন্দোলনের রাশ মোর্চা নেতাদের হাতের বাইরে কিছুটা হলেও চলে গিয়েছে। তার ফলেই রোজ এমন আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটছে। একই ভাবে বেছে বেছে লোকজনকে নিশানাও করা হচ্ছে। যেমন, এ দিন যে ডিএসপি-র গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, তিনি পাহাড়ের বাসিন্দা। বন্‌ধ শুরুর পর থেকে পুলিশি পাহারায় গাড়ি চলাচলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাই তাঁর উপরে ‘রাগ’। মোর্চা অবশ্য সব গোলমালের দায় ঝেড়ে ফেলেছে। তবে মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র ত্রিলোচন রোকার দাবি, ‘‘আন্দোলনের রাশ দলের হাতেই রয়েছে। দুষ্কৃতীরা কোথাও দৌরাত্ম্য চালালে পুলিশ দেখবে।’’ তিনি জানান, আজ, বৃহস্পতিবার থেকে লালকুঠিতে জিটিএ দফতরে কোনও কর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

Advertisement


ভস্মীভূত: পুড়িয়ে দেওয়া হল ডিএসপির গাড়ি। বুধবার দার্জিলিঙের জজবাজারে। —নিজস্ব চিত্র।

এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে চাপের মধ্যে রয়েছেন মিরিকের কাউন্সিলররাও। তাঁদের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এ দিনই চেয়ারম্যান এলবি রাই ছাড়া তাঁদের চার জন পাহাড় ছেড়ে চলে যান। তৃণমূল সূত্রের খবর, তাঁরা চিকিৎসা-সহ জরুরি কাজে সমতলে নেমেছেন। এই গোলমালের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে পাহাড়ে। ১৫ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় যখন অশান্তি শুরু হয়, তখন থেকেই বাছাই করা সম্পত্তি পোড়ানো হচ্ছে। যেমন, সম্প্রতি সংস্কারের কাজ শেষ হওয়া একটি হেরিটেজ রেল স্টেশন। পুলিশ তদন্তে নেমে শুনেছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি শান্ত হলে যখন ওই স্টেশন বানাতে ফের বহু কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে, তখন কে বা কারা সেই কাজ পাবে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

একই ভাবে মিরিকে নতুন পুরভবন, বিডিও ও এসডিও অফিসের
জন্য আগেই বহু কোটি বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি নিয়েও প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। পাহাড়ে শান্তি ফিরলে বরাদ্দ কোথায় কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুনছে পুলিশ।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.