E-Paper

যান শাসনে সাফল্যের দাবি পুলিশের, কিন্তু মেট্রোকে কাজের অনুমতি কবে?

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর (কমলা লাইন) মেট্রোর ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ। এত দিন বাইপাসের উপরে চিংড়িঘাটা মোড় ‘ব্যস্ততম এলাকা’ বলে রাস্তা বন্ধ করে মেট্রোর কাজ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৮

—ফাইল চিত্র।

সরানো হয়েছে ই এম বাইপাসের উপরের বাস স্টপ, গার্ডরেল বসিয়ে বাড়তি জায়গা বার করা হয়েছে যান চলাচলের জন্য। বিকল্প রাস্তা দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ভারী মালবাহী গাড়ি, বাসের পাশাপাশি পাঠানো হচ্ছে ছোট গাড়িও। চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে ই এম বাইপাসে
যান নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে নিউ টাউনের দিক থেকে সায়েন্স সিটির দিকে যাওয়ার পথে প্রায় ১৫ মিনিট করে সময় বাঁচানো যাচ্ছে বলে পুলিশের দাবি। মিনিট দশেক করে সময় বাঁচছে উল্টোডাঙার দিক থেকে সায়েন্স সিটিমুখী গাড়ির ক্ষেত্রেও। কিন্তু তা সত্ত্বেও কবে চিংড়িঘাটার কাছে মেট্রোর স্তম্ভ তৈরির কাজ শুরু করার জন্য পুলিশ ছাড়পত্র দেবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না লালবাজার।

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর (কমলা লাইন) মেট্রোর ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ। এত দিন বাইপাসের উপরে চিংড়িঘাটা মোড় ‘ব্যস্ততম এলাকা’ বলে রাস্তা বন্ধ করে মেট্রোর কাজ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এর আগে
একাধিক বার রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সদর্থক বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। বলা হয়েছিল, জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এই জটিলতার সমাধানসূত্র বার করতে হবে। এর পরে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয় হাই কোর্ট। কিন্তু রাজ্য সম্প্রতি হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় সমস্যা সমাধানের চেয়ে আরও দীর্ঘায়িত হল।

কলকাতা পুলিশ কি রাস্তা বন্ধ রেখে কাজ করতে দিতে প্রস্তুত? এই পরিস্থিতিতেই উঠে
আসছে ওই অংশে বর্তমান যান নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ। হাই কোর্ট রাজ্যকে বিকল্প রাস্তা খুঁজে বার করতে বলেছিল। সেই মতোই পুলিশ মেট্রোপলিটনের কাছে ই এম বাইপাসের বিকল্প ৪৫০ মিটার রাস্তা চিহ্নিত করেছে। মেট্রোপলিটন থেকে মাঝেরপাড়া হয়ে সেই রাস্তা মিশছে চিংড়িঘাটায় যে অংশে মেট্রোর কাজ হওয়ার জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তার পরে। এই পথেই এখন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সমস্ত ধরনের গাড়ি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গেই সরানো হয়েছে মেট্রোপলিটন বাস স্টপ। এত দিন ওই বাস স্টপ রাস্তার সরু অংশে থাকায় বাস থামানোর জন্য বাঁ দিকে চাপতে গিয়ে অনেক সময়েই দুর্ঘটনা ঘটছিল বলে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি। সমস্যা মেটাতে সায়েন্স সিটির দিকে ২০ মিটার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই বাস স্টপ। সায়েন্স সিটির দিক থেকে উল্টোডাঙার দিকে যাওয়ার পথে গার্ডরেল পেতেছে পুলিশ। সেই পথেই গার্ডরেলে ঘেরা অংশ দিয়ে সায়েন্স সিটির দিকে কিছু গাড়ি পাঠানো হচ্ছে। এক ট্র্যাফিক পুলিশকর্তার মন্তব্য, ‘‘আগে যেখানে নিউ টাউন থেকে গাড়ি বেরোতে গড়ে ৩০-৩৫ মিনিট সময় লাগত, এখন সেটাই লাগছে
১৫ থেকে ২০ মিনিট। উল্টোডাঙার দিক থেকে আসা গাড়িরও চিংড়িঘাটা পেরোতে আগের চেয়ে কম সময় লাগছে।’’

কিন্তু এর পরেও কেন দ্রুত মেট্রোকে কাজের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না? পুলিশের
একটি সূত্রের দাবি, মেট্রোর তরফে কিছু আশ্বাস পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধীরে চলো নীতি নেওয়া হয়েছে। চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে রাস্তা পারাপারের ভূগর্ভস্থ পথ প্রস্তুত করে দেওয়া প্রয়োজন। সেই কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় পুলিশ। পুলিশের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘আরও বেশ কিছু কাজ করার কথা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। সেগুলি হওয়ার আগেই হাই কোর্ট সময় বেঁধে দিয়েছিল। আদালত অবমাননার দায়ে যাতে পড়তে না হয়, এবং আরও একটু সময় হাতে পাওয়া যায়, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Chingrighata construction work Kolkata Metro

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy