Advertisement
E-Paper

আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণের জেলায় জেলায়! ৮৮ কিলোমিটার গতিতে ঝড় কলকাতায়, আম কুড়োতে গিয়ে মৃত্যু যুবকের

দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় দুর্যোগের জন্য ইতিমধ্যে লাল সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৪:৩৩
আকাশ কালো করে বৃষ্টি কলকাতায়। দক্ষিণবঙ্গের কয়েক জেলায় দুর্যোগের সতর্কতা।

আকাশ কালো করে বৃষ্টি কলকাতায়। দক্ষিণবঙ্গের কয়েক জেলায় দুর্যোগের সতর্কতা। — ফাইল চিত্র।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল আকাশের মুখ ভার। সেই সঙ্গে ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। দুপুর গড়াতেই আকাশ কালো করে শহরে শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। সঙ্গে অন্তত ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট থেকে ২টো ৪৭ মিনিটের মধ্যে আলিপুরে ঝড়ের গতি হয়েছিল ৮৮ কিলোমিটার। দমদমে ২টো ২৯ মিনিট থেকে ২টো ৩০ মিনিটের মধ্যে ঝড়ের গতি হয়েছিল ৭৪ কিলোমিটার। ঝড়ের আউট্রাম ঘাটের কাছে আম কুড়োতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ঝড়ের কারণে গাছের ডাল ভেঙে চক্ররেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ে। তাতেই আগুন ধরে বিপত্তি। প্রাণ হারান যুবক।

শুক্রবার দুপুরে ঝড়ের কারণে প্রায় এক ঘণ্টার মতো কলকাতা বিমানবন্দরে বন্ধ ছিল বিমানের ওঠানামা। মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে লাইনে গাছ পড়ায় বনগাঁ শাখায় বেশ কিছু ক্ষণ ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। ঝড়ে গাছ উপড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখায়।

হাওড়া, হুগলিতেও চলে ঝড়বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় দুর্যোগের জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

দুপুর ২টোর কিছু পরে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়বৃষ্টি শুরুর পূর্বাভাস দিয়েছিল হাওয়া অফিস। জারি করেছিল হলুদ সতর্কতা। সেই মতো কলকাতায় চলে ঝড়বৃষ্টি। সল্টলেক থেকে ধর্মতলা, যাদবপুর থেকে বরাহনগর— ঝমঝমিয়ে নামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। দিনদুপুরে আকাশ এতটাই কালো হয় যে, হেডলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে হয়। রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে।

কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ৩৬টি জায়গায় গাছ পড়েছে। ময়দানে এসএসকেএমের কাছে একটি গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ার কারণে গাড়ি চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়। গাছ ভেঙে পড়েছে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জে, হরিশ মুখার্জি রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট মল্লিক বাজার, এজেসি বোস রোডে। ওই রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কলকাতা পুরসভা, জিএমজি, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ মিলে গাছ সরিয়ে রাস্তার সচল করার কাজ করছে। ঝড়ের দাপটে বেশ কয়েকটি হোর্ডিং, পোস্টার ছিঁড়ে পড়ে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু এলাকায় জল জমে। চাঁদনি চক, ঠনঠনিয়ার রাস্তায় জল জমে যায়। সাউথ সিটি মলে কাচ ভেঙে জল ঢুকে আসে। দক্ষিণ কলকাতার ব্রিজি এলাকায় ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে। তা দিয়ে স্টেশনে বৃষ্টির জল পড়ছে। তবে গরমের ছুটির কারণে স্কুল, কলেজ বন্ধ। সে কারণে পড়ুয়া বা অভিভাবকদের খুব একটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি।

ময়দানের রাস্তায় ভেঙে পড়েছে গাছ।

ময়দানের রাস্তায় ভেঙে পড়েছে গাছ। —নিজস্ব চিত্র।

কলকাতার পাশাপাশি, হাওড়া, হুগলিতেও হয় বৃষ্টি। সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ঝড় হতে পারে। ওই জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে নদিয়ায়। সেখানে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

সিঙ্গুরের দিয়াড়াতে ১২ নম্বর রাজ্য সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর ১২নম্বর রাজ্য সড়কের উপর গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়েই সিঙ্গুর ব্লক প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেশিন দিয়ে গাছের ডাল পাটা কাটার কাজ শুরু করে। হুগলির বৈঁচিগ্রাম উপড়ে পড়েছে একটি প্রাচীন বটগাছ। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুট মিল কলোনিতে একটি অশ্বত্থ গাছ উপড়ে পড়েছে।

ট্রেন চলাচল ব্যাহত ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখায়। শুক্রবার দুপুর ২ টো ৪৫ মিনিট নাগাদ কাটোয়া রেল গেটের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ে রেল লাইনে। তখন একটি আপ কাটোয়া লোকাল ব্যান্ডেল স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছিল। দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেনটি। ওই শাখায় বন্ধ হয় ট্রেন চলাচল। প্রায় ৪৫ মিনিট পর গাছ সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

বৃষ্টিভেজা মা কলকাতার এক সেতু।

বৃষ্টিভেজা মা কলকাতার এক সেতু। —নিজস্ব চিত্র।

গত কয়েক দিন ধরেই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা ছিল কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে গরমের জন্য সতর্কতাও জারি করা হয়। কয়েকটি জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হলেও তাতে অস্বস্তি কমেনি। শুক্রবারের পরে শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূ্র্বাভাস রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে। রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে ভিজতে পারে দক্ষিণের জেলাগুলি। তবে ঝড়বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমে যাবে শনিবারের পর থেকে। ঝড়বৃষ্টির কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা কমবে। আগামী কয়েক দিনে দুই থেকে তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি চলেছে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ি জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির দাপট আগের চেয়ে কমেছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy