Advertisement
E-Paper

পতিকে ভোট-বৈতরণী তরিয়ে দিতে পথে এ বার মদন-পত্নীও

বন্দি বাবার হয়ে দুই ছেলে ও বৌমা প্রথম থেকেই নেমে পড়েছেন ভোট-কুরুক্ষেত্রে। রবিবারের প্রচারে যোগ দিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রীর অর্ধাঙ্গিনীও। সতীর পুণ্যে পতির ভোট-বৈতরণীর পারে যাওয়াটা সুগম হয় কি না, তা দেখতে বাংলার নজর কামারহাটিতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৬ ০৪:২৭
মদন মিত্রের হয়ে প্রচারে স্ত্রী অচর্না, পুত্রবধূ স্বাতী (বাঁ দিকে) এবং ছেলে স্বরূপ মিত্র। রবিবার কামারহাটিতে। ছবি: সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়।

মদন মিত্রের হয়ে প্রচারে স্ত্রী অচর্না, পুত্রবধূ স্বাতী (বাঁ দিকে) এবং ছেলে স্বরূপ মিত্র। রবিবার কামারহাটিতে। ছবি: সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়।

বন্দি বাবার হয়ে দুই ছেলে ও বৌমা প্রথম থেকেই নেমে পড়েছেন ভোট-কুরুক্ষেত্রে। রবিবারের প্রচারে যোগ দিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রীর অর্ধাঙ্গিনীও। সতীর পুণ্যে পতির ভোট-বৈতরণীর পারে যাওয়াটা সুগম হয় কি না, তা দেখতে বাংলার নজর কামারহাটিতে।

মদনবাবুর নামে ভোট কত পড়ল না-পড়ল, সেটা বোঝা যাবে ১৯ মে, ফলাফল ঘোষণার দিনে। তবে এ দিন পতিদেবতার জন্য পথে নেমে ফুল আর মালা কিছু কম পাননি তাঁর স্ত্রী অচর্না মিত্র। সেই সাড়া দেখেই মিছিলের শেষে অর্চনাদেবী বলেন, ‘‘সত্যের জয় হবেই। মানুষ যে-ভাবে আজ এগিয়ে এসেছেন, তাতে উনি আরও বেশি ভোটে জিতবেন।’’

বাবার মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিক নন স্বরূপ মিত্র বা শুভরূপ মিত্র। তবে এ বার শুরু থেকেই মদনবাবুর প্রচারের মুখ তাঁর এই দুই ছেলে। এবং পুত্রবধূ স্বাতীদেবী। এ দিন মাকে নিয়ে বাবার হয়ে ভোট চেয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেন তাঁরা। সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হয়ে গৃহকর্তা জেলে বন্দি। তাই ছুটির দিনের ভোট-প্রচারে সকাল থেকে বিকেল তাঁর হয়ে কামারহাটি চষে ফেলল মিত্র পরিবার।

Advertisement

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পাশেই মদনবাবুর ফ্ল্যাট। শুভরূপ ভবানীপুরের বাসিন্দা। তবে বাবার হয়ে রবিবার সকালেই প্রচারে নামবেন বলে শনিবার রাত থেকে দক্ষিণেশ্বরের ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। সকাল ১০টা নাগাদ দলীয় কর্মী এবং মদনবাবুর দীর্ঘদিনের সহচর ঝন্টু দে, প্রশান্ত প্রামাণিক ও রঞ্জিত দে-কে নিয়ে কামারহাটির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নবীন ঘোষালের ডেরায় হাজির হন শুভরূপ। তার পরে আড়িয়াদহ গঙ্গার ঘাট লাগোয়া মুক্তকেশী মন্দিরে পুজো দিয়ে নবীনবাবুর দেখানো পথেই ঘুরে ঘুরে প্রচার করেন মদনের ছোট ছেলে। যান ভোটারদের বাড়িতেও।

মিছিল দেখে চুনীলাল ব্যানার্জি রোডের ধারে এক পাশে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৭০ বছরের উমা প্রামাণিক। তাঁর সঙ্গে শুভরূপের পরিচয় করিয়ে দিলেন নবীনবাবু। মদন-পুত্র ওই বৃদ্ধাকে প্রণাম করতেই তিনি বললেন, ‘‘বাবা, আমার মদন কবে আসবে? আমার যে কেউ নেই। মদন আমাকে খাওয়ার টাকা দিত।’’ বৃদ্ধার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে শুভরূপের জবাব, ‘‘সত্যের জয় হবেই।’’ পায়ে পায়ে মিছিল পৌঁছল আর এক বাসিন্দার বাড়ির সামনে। লাজুক স্বভাবের শুভরূপ হাত জোড় করে বললেন, ‘‘কাকু, ২৫ এপ্রিল সকালে গিয়ে বাবাকে ভোটটা দিয়ে আসবেন।’’
কথা শেষ হওয়ার আগেই
গৃহকর্তা হেসে জানালেন, ‘‘এটা কি আর বলতে হয়!’’

সকালে কামারহাটি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ফিডার রোড, কে সি কাঠুরিয়া লেন, রাখালদাস কর লেন, চুনীলাল ব্যানার্জি রোড, ইউ এন মুখার্জি রোড, দেবকামিনী দেবী লেনের বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচারের পরে বিকেলে ছিল ‘মহামিছিল’। কামারহাটির এক থেকে ছ’নম্বর ওয়ার্ডের কর্মীদের নিয়ে বিকেল ৪টেয় বেরোল মদনবাবুর বড় ছেলে স্বরূপ, তাঁর স্ত্রী স্বাতী এবং মদন-পত্নী অর্চনাদেবীর মিছিল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কামারহাটির পুরপ্রধান গোপাল সাহা ও অন্যান্য কাউন্সিলর।

মহামিছিল যত এগিয়েছে, বেড়েছে লোকের সংখ্যা। বহুতলের উপর থেকে ফুলের অবিরাম বৃষ্টি চলেছে মিত্র পরিবারের মাথায়। অনেকে মিছিলে ঢুকে মালা পরিয়ে দিয়েছেন স্বরূপ ও অচর্নাদেবীকে

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy