দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে তা লিখিত আকারে জানাতে হবে। সূত্রের খবর, রবিবার কালীঘাটের বৈঠকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হারের পর থেকে জোড়াফুল শিবিরের একাংশ দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এ অবস্থায় তৃণমূলনেত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মমতা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে হারের কারণ নিয়ে কোনও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে তা লিখিত আকারে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে জমা দিতে হবে।
তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যদের নিয়ে রবিবার বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। কালীঘাটের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ছিলেন দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য চন্দ্রিমাও। এ বারের নির্বাচনে দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমাও পরাস্ত হয়েছেন বিজেপির সৌরভ শিকদারের কাছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হলেও জেলা পরিষদগুলি এখনও রয়েছে তাদের দখলে। পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে এই জেলা পরিষদগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এরই মধ্যে রবিবার সব জেলা পরিষদের দলীয় সদস্যদের নিয়ে বৈঠক সারলেন মমতা। বৈঠকের পরে তৃণমূল সমাজমাধ্যমের পাতায় লিখেছে, ‘একটি সুন্দর আগামীর জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব এবং আমাদের বাংলাকে বিভেদ ও হিংসা সৃষ্টিকারী নির্মম শক্তিদের হাত থেকে রক্ষা করব।’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি জিতে নিয়েছে ২০৭টি আসন। কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দু’টি করে আসন জিতেছে। সিপিএম এবং আইএসএফ জিতেছে একটি করে আসন। নির্বাচনে ভরাডুবির পরই তৃণমূলের একাংশ দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এমনকি দলীয় মুখপাত্রদের একাংশও তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন ভোটের পর। তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছে তৃণমূলও। তিন মুখপাত্রকে ছ’বছরের জন্য দল থেকে নিলম্বিত করে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা যে বরদাস্ত করা হবে না, রবিবারের বৈঠকে তা ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। জানা যাচ্ছে, কারও কিছু অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে চন্দ্রিমাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।