তাঁর পূর্বসূরিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তনকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভ কামনা জানাবেন, এর মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে চাঞ্চল্যকর কিছু নেই। তবে রাজ্যের নাম যদি পশ্চিমবঙ্গ হয় এবং প্রাক্তন ও বর্তমানের নাম যদি হয় যথাক্রমে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা হলে এই শুভেচ্ছাও নজির বৈকি!
অভিন্নহৃদয় বন্ধু অনিল বিশ্বাসের সঙ্গে একই দিনে জন্মেছিলেন বুদ্ধদেব। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক থাকতে থাকতেই অনিল প্রয়াত হওয়ার পর থেকে ১ মার্চ দিনটা সাদামাঠাই কাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। আগে আলিমুদ্দিনে দলীয় দফতরে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হলে শুভেচ্ছা গ্রহণের ছোট্ট পর্ব থাকতো। ইদানীং দলের দফতরেও নিয়মিত যাওয়া হয় না। নিভৃতে জন্মদিনের ফাঁকেই বৃহস্পতিবার বুদ্ধবাবুর পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফোন এসেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতার। সঙ্গে ফুল এবং মিষ্টি। বর্তমানকে পাল্টা কৃতজ্ঞতাও জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান।
বাম সরকারের আমলে বুদ্ধদেব-মমতার তিক্ত রাজনৈতিক রসায়নে অনেকটাই প্রলেপ দিয়েছে সময়। মাত্র বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা পুর কমিশনার খলিল আহমেদকে নির্দেশ দিয়েছেন, বুদ্ধদেববাবুর ফ্ল্যাটের শৌচাগার-সহ প্রয়োজনীয় অংশ যেন অবিলম্বে মেরামত করে দেওয়া হয়। বুদ্ধবাবু চাইলে তাঁর জন্য সপরিবার অতিথিশালায় থাকার ব্যবস্থা করে সরকারি ওই আবাসন সংস্কার করে দিতেও আগ্রহী মমতা। তার পরেই দোলের দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর টুইট, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা’।
কয়েক মাস আগে অসুস্থ বুদ্ধবাবুর শরীরের খোঁজ নিতে পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন মমতা। আগের চেয়ে সুস্থ হলেও বুদ্ধবাবুর যাতায়াত এখনও সীমাবদ্ধ। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর মনোভাব, সৌজন্য স্বাগত। তবে তাঁকে নিয়ে ব্যস্ততা তাঁর বিড়ম্বনারই কারণ!