Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

৩০ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আলাপন-বদলিতে স্তম্ভিত মমতা বললেন, ‘আমায়, মুখ্যসচিবকে, রাজ্যকে অপমান করা হয়েছে’

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৯ মে ২০২১ ১৭:৪৩
সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি নির্দেশ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে প্রথমেই সরাসরি সঙ্ঘাতে গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে প্রাথমিক ভাবে ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খুলে রেখেই মুখ্যসচিবের বদলির চিঠি ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানান মমতা। কিন্তু পাশাপাশিই কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্র্রী মোদীর পর্যালোচনা বৈঠক এবং আলাপনের বদলি-চিঠি প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কার্যত খোঁচাও দিয়েছেন মমতা। বস্তুত, একটা সময়ে তিনি এমনও বলেন, ‘‘মুখ্যসচিব বাঙালি বলেই কি এত রাগ!’’ পরক্ষণেই অবশ্য বলেন, ‘‘আমি বাঙালি-অবাঙালি করতে চাই না।’’

তবে ওই আর্জির পাশাপাশিই মমতা বলেছেন, ‘‘আমাকে, মুখ্যসচিবকে এবং রাজ্য সরকারকে অপমান করা হয়েছে। এটা হচ্ছে স্রেফ রাজনীতি করার জন্য। আপনারা ভোটে হেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন।’’ মমতার বক্তব্য, ‘‘প্রাইম মিনিস্টার স্যার, আপনার দুটো পা ধরলে যদি আপনি খুশি হন, আমি বাংলার জন্য তা-ও করতে পারি।’’ তার পরেই মমতা আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘এই চিঠি আপনারা ফিরিয়ে নিন।’’

এখন দেখার, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি মেনে কেন্দ্রীয় সরকার ওই বদলির নির্দেশ প্রত্য়াহার করে কি না। না করে পরিস্থিতি বিচারে মমতা কী করেন। হাতে সময় ২৪ ঘন্টা। কারণ, কেন্দ্রের নির্দেশ মতো সোমবার সকাল১০টার মধ্যেই আলাপনকে নর্থ ব্লকের কর্মিবৃন্দ মন্ত্রকে গিয়ে দেখা করতে হবে।

Advertisement

মমতা জানান, তাঁর শনিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকটি পূর্ব নির্ধারিত ছিল না। কিন্তু যে ভাবে এক শ্রেণির গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে খবর ‘খাওয়ানো’ হচ্ছে, তাতে তাঁকে তাঁর দিকটা বলতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ভেবেছছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরেই বিষয়টা থেমে যাবে। কিন্তু সেটা থামল না। আপনারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কাজ করলেন।’’ মমতা জানান, তাঁর কর্মসূচি ঘোষণার পরেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছিল। যে কারণে তাঁকেও সফর কাটছাঁট করতে হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁকে দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয় বলে জানান মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার নামবে বলে আমাদের কপ্টার ২০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ১ মিনিটের জন্য দেখা করতে চাওয়ায় তাঁর এসপিজি জবাব দেয়, ‘এক ঘণ্টা পর বলুন। এখন কিছু হবে না।’ আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল ওখানে।’’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই বিজেপি-র শীর্ষনেতারা টুইট করতে শুরু করেছেন এই মর্মে যে, মমতা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে রেখেছিলেন। শনিবার মমতা পাল্টা জানিয়েছেন, তাঁকেই বরং ২০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটানো হয়েছিল। তার পরেও বসিয়ে রাখা হয়েছিল।

মমতার আরও অভিযোগ, ‘‘আগে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক। কিন্তু গিয়ে দেখি সেখানে রাজ্যপাল, মন্ত্রীরাও আছেন। বিজেপি-র সকলে আছে। আমি একা!’’ মমতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই কলাইকুন্ডা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। মোদীর সঙ্গে দেখা ক্ষয়ক্ষতির নথি তাঁর হাতে তুলে দিয়ে মোদীর অনুমতি নিয়েই দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য বেরিয়ে যান তিনি। নাম না করলেও বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘‘এখানে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতাকে ডাকা হচ্ছে। গুজরাতে ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রশাসনিক বৈঠকে কেন কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতাকে ডাকা হল না? আপনারা তো বিরোধী দলকে সংসদেও তাদের মর্যাদা দেন না। তাদেরও বলতে দেন না।’’

এর পরই আলাপনের বদলি প্রসঙ্গে ঢোকেন মমতা। দিঘায় বৈঠক করার সময় আলাপনের বদলির চিঠির কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘শকিং! কোন আইনে ওকে ডেকে পাঠানো হয়েছে! আলাপনের কী দোষ? তিনি তো আমার সঙ্গেই কাজ করছিলেন।’’

সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে আলাপনের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের কাছে সেই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছিল। কেন্দ্র সেই আবেদন মেনে ২৪ মে চিঠি পাঠিয়েছিল বলে জানান মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘তার পর কী এমন হল যে মুখ্যসচিবকে তড়িঘড়ি বদলির চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হল? রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই আলাপনকে বদলি করা হয়েছে।’’ মমতার প্রশ্ন, ‘‘বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় হজম করতে না পেরে প্রতিহিংসা থেকেই কি মুখ্যসচিবকে বদলি করা হল? রাজ্যকে কাজই করতে দিচ্ছে না কেন্দ্র। বাঙালিদের উপর এত রাগ কেন? মুখ্যসচিব বাঙালি বলেই কি তাঁকে বদলি করা হল?’’

মুখ্যসচিবেরএমন অকস্মাৎ বদলিতে গোটা দেশের আইএএস-আইপিএস মহলই হতভম্ব বলে জানান মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘কোন আইনে তাঁকে ডেকে পাঠানো হল! স্বাধীনতার পর ৭৪ বছরে দেশে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি!’’

আরও পড়ুন

Advertisement