Advertisement
E-Paper

দলের নাম ঊহ্য রেখে বাজেটে ‘অন্য’ মানস

বিধানসভার অলিন্দে সোমবার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের সঙ্গে হঠাৎই দেখা মানস ভুঁইয়ার। মানসবাবু তখনই অর্থমন্ত্রীকে বলেছিলেন, কাল বাজেট বিতর্কে বলব। আগে তো এক রকম শুনেছেন! এ বার অন্য রকম। মঙ্গলবার সেই অন্য রকমের বহর দেখল বিধানসভা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০২:৫১

বিধানসভার অলিন্দে সোমবার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের সঙ্গে হঠাৎই দেখা মানস ভুঁইয়ার। মানসবাবু তখনই অর্থমন্ত্রীকে বলেছিলেন, কাল বাজেট বিতর্কে বলব। আগে তো এক রকম শুনেছেন! এ বার অন্য রকম। মঙ্গলবার সেই অন্য রকমের বহর দেখল বিধানসভা।

বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে এ দিন বাজেট-আলোচনার বক্তার ছাপানো তালিকায় মানসবাবুর নাম ছিল না। কিন্তু তিনি বলতে চেয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেন। স্পিকার তখন তৃণমূল বিধায়ক পরশ দত্তের নাম কেটে সেখানে মানসবাবুর নাম হাতে লিখে দেন। কিন্তু তিনি কোন দলের বিধায়ক, তা ঊহ্য রাখা হয়। স্পিকারের অনুমতি পেয়েই প্রাক্তন বাম সরকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মানসবাবু! তিনি বলেন, ‘‘বাম সরকার আর্থিক ভাবে এ রাজ্যকে শুকিয়ে দিয়েছিল। এই ছ’বছরে জলসিঞ্চন করে রাজ্যকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।’’ রাজ্যে নোট বাতিলের প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় সরকারকেও আক্রমণ করেন মানসবাবু। তবে এর চেয়ে বেশি আর কিছু বাজেট নিয়ে তিনি বলেননি। এর পরেই তিনি ঢুকে পড়েন কংগ্রেস এবং বামেদের রাজনৈতিক আক্রমণে।

মানসবাবু রাজ্যের বিগত তৃণমূল-কংগ্রেস জোট সরকারের কথা স্মরণ করান। ওই সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে ২০১২ সালে কংগ্রেস বেরিয়ে যায়। সেই বিচ্ছেদের জন্য দিল্লি এবং রাজ্যের কংগ্রেসকেই দায়ী করে মানসবাবু বলেন, ‘‘কেন বিচ্ছেদ হল বুঝলাম না। আমি উপরওয়ালাদের বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম।’’ রাজ্যের কংগ্রেস মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা পূরণ করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিধানসভায় গত সপ্তাহে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে মার্শাল ও নিরাপত্তা রক্ষীদের ধস্তাধস্তির প্রসঙ্গ টেনেও মানসবাবু কংগ্রেসের ভূমিকাকে কটাক্ষ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘স্পিকারের সমালোচনা করুন। ইমপিচমেন্ট আনুন। কিন্তু তাঁর দিকে আঙুল তুলে কিছু বলা যায় না, সেটা ভুলে গেলেন?’’ কংগ্রেস এবং বামেদের যৌথ ভাবে বিধানসভা বয়কট এবং রাজভবনের দ্বারস্থ হওয়া নিয়ে মানসবাবুর কটাক্ষ, ‘‘যে সিপিএমের হাতে কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী খুন হয়েছেন, আমতায় কংগ্রেস কর্মীদের হাত কেটে নেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন রাজভবন গেলেন!’’

মানসবাবুর এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থান। তা দেখে বিরোধী শিবিরের এক বিধায়কের মন্তব্য, ‘‘শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাসে তার্কিক দ্বিজপদ বলে একটা চরিত্র ছিল। সে সব বিষয়েই দু’পক্ষের যুক্তি জানত। যখন যার পক্ষে, সেই দিকের যুক্তিগুলি পেশ করত। মানসবাবুর কাণ্ড দেখে
সেই দ্বিজপদর কথা মনে পড়ছে।’’

Budget Debate
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy