Advertisement
E-Paper

বাবা বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী, দিদি তৃণমূল কাউন্সিলর, বিজেপি-তে যোগ দিলেন কস্তুরী গোস্বামী

বামফ্রন্ট জমানায় সরকারের শরিক দল আরএসপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্যতম ছিলেন ক্ষিতি গোস্বামী। ঢাকুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তিন বারের বিধায়ক ছিলেন। দু’দফায় ১০ বছর রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর কন্যা বিজেপিতে শামিল হলেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮
(বাঁ দিক থেকে) শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য এবং কস্তুরী গোস্বামী।

(বাঁ দিক থেকে) শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য এবং কস্তুরী গোস্বামী। —নিজস্ব চিত্র।

বাবা ছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মা এককালে হয়ে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’। দিদি তৃণমূলের কাউন্সিলর। আর তিনি নিজে যোগ দিলেন বিজেপিতে। আরএসপির প্রয়াত নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী গোস্বামী মঙ্গলবার পদ্মফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। তাঁর যোগদান পর্ব দায়সারা গোছেরও হয়নি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের রাজ্য সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সম্মিলিত উপস্থিতিতে কস্তুরীকে বিজেপিতে স্বাগত জানানো হয়েছে।

বামফ্রন্ট জমানায় সরকারের শরিক দল আরএসপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্যতম ছিলেন ক্ষিতি। ঢাকুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তিন বারের বিধায়ক ছিলেন। দু’দফায় ১০ বছর রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী ছিলেন। পরে নিজের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন। এ হেন বামনেতার কন্যা কস্তুরী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে কেউ কেউ বিস্মিত।

ক্ষিতির পরিবারে রাজনৈতিক মতাদর্শগত বৈচিত্র অবশ্য নতুন নয়। ক্ষিতি নিজে আরএসপির প্রথম সারির নেতা হওয়ায় দলের নানা কাজে তাঁর স্ত্রী সুনন্দা মুখোপাধ্যায়কেও এক সময়ে অংশীদার হতে দেখা যেত। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটানোর পরে সেই সুনন্দাকেই রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে বিস্ময় তখনও তৈরি হয়েছিল। পরে ক্ষিতির জ্যেষ্ঠা কন্যা বসুন্ধরা গোস্বামী তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়ে তিনি বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর। বসুন্ধরাকে তার আগে বাবার দল আরএসপি-তে সক্রিয় থাকতে কখনও দেখা যায়নি। সেই অর্থে তৃণমূলেই তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু। কিন্তু কনিষ্ঠা কন্যা কস্তুরী এক সময়ে আরএসপি-র ছাত্র সংগঠন পিএসইউ-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সংগঠনের তরফ থেকে তাঁকে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্ব ছাত্র-যুব উৎসবেও পাঠানো হয়েছিল। আরএসপি সূত্র বলছে, ক্ষিতি ছাড়া তাঁর পরিবারে আর কেউ যদি আরএসপি-তে প্রকৃত সক্রিয় থেকে থাকেন, তা হলে তা কস্তুরীই ছিলেন। এ হেন কস্তুরীই লাল পতাকা ত্যাগ করে মঙ্গলবার গেরুয়া পতাকা হাতে নিলেন।

বিজেপি-তে আনুষ্ঠানিক যোগদান সেরে তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা বরাবর প্রতিবাদী ছিলেন। আমিও বাবার পথেরই পথিক। আমার মনে হয়, এখন পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদ খুবই জরুরি। শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খোলা জরুরি। এবং তার জন্য বিজেপি-ই সেরা মঞ্চ।’’

কস্তুরী ছাড়াও মঙ্গলবার বিজেপি-তে যোগ দেন অবসরপ্রাপ্ত এনএসজি কম্যান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এক প্রাক্তন সিআরপিএফ আধিকারিক-সহ আরও দু’জনকে শমীকরা একই সঙ্গে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়েছেন।

BJP joining Kasturi Goswami Kshiti Goswami Vasundhara Goswami
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy