রাত পোহালেই শহরে ঢুকবে বাংলাদেশের বিশেষ ট্রেন। কাল, বুধবারই যে পালিত হবে ১১৫তম উরস উৎসব। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই, বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ এই বিশেষ দিনটিতে হাজির হন মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদে। ফুল-মিষ্টি নিয়ে তীর্থযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত মেদিনীপুর পুরসভাও।
‘মওলাপাক’ হজরত সৈয়দ শাহ মুর্শেদ আলি আল কাদেরি বাগদাদির স্মরণেই প্রতি বছর এই উরস উৎসব আয়োজিত হয়। এ বার ১১৫তম বর্ষ। ১৯০৩ সাল থেকে এভাবেই বিশেষ ট্রেন আসা শুরু হয়েছিল। যা এখনও চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মতে, হজরত মহম্মদের এই ৩২তম বংশধর সুফিধর্মমত প্রচারের লক্ষ্যে ইরাকের বাগদাদ থেকে ভারতে এসেছিলেন। তারপর এখানে সাধনা শুরু করেন। অনুষ্ঠানটি মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষই এতে সামিল হন।
উৎসব উপলক্ষে সেজে উঠছে জোড়া মসজিদ। উরস কমিটির তরফে জানানো হয়েছে এ বার বাংলাদেশ থেকে ২,২২৯ জন তীর্থযাত্রী আসবেন। ১২৮০ জন পুরুষ, ৮৬৮ জন মহিলা ও ৮১ জন শিশু। এ বার বাংলাদেশের ট্রেন আসবে বুধবার সকালে। ফিরে যাবে বৃহস্পতিবার সন্ধেয়। প্রতি বারই এই একটা দিনে শহরে ব্যবসা হয় কয়েক কোটি টাকার! তীর্থযাত্রীরা সব হোটেলে ওঠেন। সুযোগ বুঝে হোটেলের ভাড়াও দ্বিগুণ হয়ে যায়। মেদিনীপুরের ক্ষীরের গজা আর মিহিদানা, এই দুই মিষ্টির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আকর্ষণ প্রবল। এক একজন ১০ কেজি, ২০ কেজি, এমনকী ৫০ কেজি পর্যন্ত মিষ্টি নিয়ে ফেরেন। ফলে, এই দু’দিন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা প্রথাগত মিষ্টি তৈরি বন্ধ রেখে এই দু’ধরনের মিষ্টি তৈরিতেই ব্যস্ত থাকেন। এখানেই শেষ নয়, অনেকে মাদুর, শিলনোড়া, অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি, কড়াইও নিয়ে যান। ফলে, এই দু’দিনে ভাল লাভের অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা।
শহরের হোটেল ব্যবসায়ী মানস দাসের কথায়, “এই দু’টো দিন ভীষণ ভাল ব্যবসা হয়। ওঁরা (বাংলাদেশিরা) তো দু’-একবার হোটেলে ঢোকেন। বাকি সময়টা মসজিদেই কাটান। ফলে খরচ কম, লাভ বেশি।” মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী চিন্ময় দাস আবার বলেন, “ওঁরা মিহিদানা ও ক্ষীরের গজা পছন্দ করেন। তাই কয়েক কুইন্টাল বানিয়ে রাখি।” সাধারণত, ৬ মাসে যত ক্ষীরের গজা বিক্রি হয় না, একদিনে তার দ্বিগুন বিক্রি হয়ে যায়!
বাংলাদেশ থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য পুরসভাও প্রস্তুতি নিয়েছে। অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা হয়েছে, তৈরি হয়েছে অস্থায়ী শৌচাগার, অতিরিক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় থাকছে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক। মেডিক্যাল ক্যাম্প, পুলিশ ক্যাম্পও তৈরি করা হচ্ছে। পুরপ্রধান প্রণব বসুর কথায়, “বিদেশি তীর্থযাত্রীদের সাচ্ছন্দ্যে যাতে ত্রুটি না থাকে সে জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”