১৬ দিনের ব্যবধান। গত ১৫ জানুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটার কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছরের যুবক শৌভিক মণ্ডলের। আর শনিবার হলদিয়ার সুতাহাটা থানার বাড় বাসুদেবপুরের ঘোষের মোড়ে দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল গোটা মণ্ডল পরিবার। মৃত্যু হল শৌভিকের বাবা অরূপ মণ্ডল (৫২), মা দীপ্তি মণ্ডল (৪৫) এবং একমাত্র বোন সৃজিতা মণ্ডল (১৩)-এর। দুর্ঘটনায় মহাদেব শাসমল (৪৮) নামে এক বাসচালকও মারা গিয়েছেন।
মণ্ডল পরিবারের আত্মীয়েরা জানান, ছেলের অকালমৃত্যুর পরে শুক্রবারই অরূপ ‘কৃষক বন্ধু মৃত্যু কল্যাণ প্রকল্প’-এর টাকার জন্য আবেদন করেছিলেন।এ দিন স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে মোটরবাইকে বালুঘাটায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, হলদিয়া টাউনশিপ থেকে কুকড়াহাটিগামী একটি বেসরকারি বাস যাত্রী নিয়ে তীব্র গতিতে আসছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার ধারে জলের পাইপে ধাক্কা মেরে, উল্টো দিক থেকে আসা অরূপদের মোটরবাইকটিকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যান। বাস চালক মহাদেবকে গুরুতর আহত অবস্থায় তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁরও মৃত্যু হয়। ১০ জন যাত্রী জেলার দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কলকাতায় এক জনকে ‘রেফার’ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষিকা সোমা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অরূপ আমার সহপাঠী ছিল। খুবই আন্তরিক। কিছু দিন আগেই পুত্রশোক সইতে হয়েছে। এখন পরিবারের কেউই রইল না!’’
দুর্ঘটনার পরে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে যান জেলাশাসক মহম্মদ রিশিন ইসমাইল। জেলাশাসক জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)