ময়না: নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই হাসপাতালেরই দুই নার্স। তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা এক পুরুষ নার্স সুস্থ হয়ে শুক্রবার রাতে ময়নার বাকচা এলাকার চান্দিবেনিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন।
এ দিন বারাসত থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে বাড়ি ফেরার পথে ওই তরুণ নার্স ফোনে জানান, ‘‘ছুটিতে দেশের বাড়িতে এসে কাঁচা খেজুর রস খেয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে খেজুর গাছ নেই। তবে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রস পাওয়া যায়। সেই রস আনিয়ে খেয়েছিলাম। আরও কয়েক জন খেয়েছিলেন আমার সঙ্গে। কিন্তু নিপায় আক্রান্ত হলাম শুধু আমি।’’ তবে তিনি বলেন, ‘‘এখন কোনও সমস্যা নেই। অনেক দিন পরে বাড়ি ফিরছি। কেউ ভাবেনি যে আমি বাঁচব। নতুন জীবন পেলাম।’’ উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য দফতর থেকে প্রাথমিক ভাবে দাবি করা হয়েছিল, আক্রান্তরা গত কয়েক মাসের মধ্যে বারাসত থেকে কোথাও যাননি।
পশ্চিমবঙ্গে গত ডিসেম্বরের শেষে দুই জন নিপা-আক্রান্তের খোঁজ মেলে। পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ থেকে গত ১৩ জনুয়ারি তাঁদের রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ আসে। এই দু’জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যদিও তাঁদের কারও শরীরের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। তবে দুই নার্সই অতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে কোমায় ছিলেন। তবে ক্রমশ তাঁরা চিকিৎসায় সাড়া দিতে থাকেন। ২১ জানুয়ারির রিপোর্টে দেখা যায়, পুরুষ নার্সের দেহে আর নিপার অস্তিত্ব নেই।
৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ওই নার্সের দেহরসের নমুনার দু’বার আরটিপিসিআর পরীক্ষা হয়। দু’টি রিপোর্টই নেগেটিভ আসায় মঙ্গলবার তাঁকে আইসোলেশন থেকে জেনারেল বেডে দেওয়া হয়। বারাসতের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। এ দিন রাতে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় বাড়ি ফেরেন। এখনও হাসপাতালে ভর্তিরয়েছেন মহিলা নার্স। তাঁর অবস্থারও উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতালসূত্রের খবর। তবে তিনি পুরোপুরি বিপন্মুক্ত নন।
দুই নার্সেরই ‘গ্লাসগো কোমাস্কেল স্কোর’ ৫-এর নীচে চলে গিয়েছিল এক সময়ে। এই স্কোর ১ থেকে ১৫ পর্যন্ত হয়। স্কোর যত নামে, চেতনা তত কমে। ১০-এর কম মানে কোমায় চলে যাওয়া। মহিলা নার্সের গ্লাসগো কোমা স্কেলের স্কোরএখনও দুর্বল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)