গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়ে জিতেছিলেন তাঁরা। জেতার লক্ষ্যে লড়ছেন এ বারও। তবে শিবির বদলেছে। এ বার নির্বাচনে বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুর থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী-পদ পেয়েছেন পদ্মত্যাগী দুই বিধায়ক—তন্ময় ঘোষ এবং হরকালী প্রতিহার। মঙ্গলবার নাম ঘোষণার পরেই বুধবার সকাল থেকে প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন দু’জনে। তবে তাঁদের প্রচারে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের তারতম্য নানা প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে।
বাঁকুড়ার জয়পুরের গন্ধেশ্বর শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন হরকালী। নিজের নামে দেওয়ালও লেখেন। তবে প্রথম দিনের প্রচারে তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের তেমন দেখা যায়নি। ছিলেন না জয়পুর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি কৌশিক বটব্যাল কিংবা নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জাকির খান-ও।
কেন নেই? জাকিরের মন্তব্য, ‘‘শুনতে পাচ্ছি, বলা হচ্ছে আমরা গেলে নাকি ওঁর ভোট কমে যাবে! অথচ জান-প্রাণ দিয়ে দলটা আমরাই করছি।” খানিকটা ক্ষোভের সঙ্গে আইএনটিটিইউসি-র বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি ইয়ামিন শেখও বলেন, “শুনছি প্রচার ও কর্মী বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু ডাক না পেলে কী ভাবে যাই?” তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি কৌশিক বটব্যালের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমান ব্লক সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী অবশ্য প্রচারে ছিলেন। তিনি ও হরকালী দাবি করেন, “এখন আলু চাষের মরসুম। বহু কর্মীই কম-বেশি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তা-ই তাঁরা এ দিন প্রচারে আসতে পারেননি। তবে প্রতিটি পরিবারের একাধিক সদস্য রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। বাংলার মানুষ তাই তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।”
তবে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় আদতে ঘাসফুলেরই নেতা। গতবার দলের টিকিট না পেয়ে তিনি বিজেপিতে গিয়ে প্রার্থী হন। ভোটে জেতার অল্প দিনের মধ্যেই তৃণমূলে ফেরেন। ফলে তৃণমূল কর্মীদের কাছে তিনি ঘরের ছেলে। তাই এ দিন তাঁর প্রচারে কর্মীদের ভিড় চোখে পড়েছে।
তন্ময় বলেন, “বিষ্ণুপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য রাস্তা, জল, আলো,শ্মশান-সহ নানা ক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হয়েছে। বছরভর মানুষের সঙ্গে থাকি। কর্মীরাও সবাই পাশে আছেন। তা-ই জয় নিয়ে আমি নিশ্চিত।”
তবে পরিসংখ্যান বলছে, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর— এই দুই বিধানসভাতে তৃণমূল স্বতিতে নেই। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুরে প্রায় ২২ হাজার ভোটে, কোতুলপুরে প্রায় ন’হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই বিধানসভায় শাসক শিবির ১১ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কোতুলপুরে প্রায় ছ’হাজার ও বিষ্ণুপুরে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে শাসক দলকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে।
বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, “কোতুলপুরের বিধায়ক পরিষেবা দিতে যে তিনটি ফোন নম্বর দিয়েছিলেন তাতে ফোন করে আদৌ কাজ হত? বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক বাঁধগুলি আছে না, বিক্রি হয়ে গিয়েছে? দু’টি এলাকাতেই বিজেপির জয় এ বারও নিশ্চিত।” তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্তের দাবি, ‘‘বিজেপির গালগল্প কেউ বিশ্বাস করেন না।মানুষ উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)