Advertisement
E-Paper

‘ওর কয়েকটা স্বভাবে নিজেকে খুঁজে পাই’, অরিজিৎকে নিয়ে আর কোন অভিজ্ঞতা জানালেন শিলাজিৎ?

শিলাজিৎ জানান, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অরিজিতের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান। তিন-চার বছর আগে শিলাজিতের গান মঞ্চে গেয়েছিলেন অরিজিৎ। সেই গান সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন বাংলার গায়ক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৬
অরিজিতের সঙ্গে প্রায়ই কথা হয় শিলাজিতের!

অরিজিতের সঙ্গে প্রায়ই কথা হয় শিলাজিতের! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মঞ্চে গান গাইছেন শিল্পী। আচমকাই এক পুলিশকর্মী মঞ্চে গান থামাতে বলেছিলেন তাঁকে। মঞ্চে দাঁড়িয়েই এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শিলাজিৎ মজুমদার। স্পষ্ট বলেছিলেন, “আপনি আমাকে না-ই চিনতে পারেন। কিন্তু ৩২ বছর ধরে গান গাইছি। এঁরা অন্তত আমাকে চেনেন।” কলকাতারই বুকে কয়েক দিন আগেকার ঘটনা। তবে এই ঘটনাকে আর কোনও গুরুত্ব দিতে নারাজ গায়ক। তাঁর গান স্বয়ং অরিজিৎ সিংহ নিজের অনুষ্ঠানে গেয়েছেন। তাই শিলাজিতের বক্তব্য, “এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?” ব্যক্তিগত স্তরে কেমন সম্পর্ক দু’জনের?

শিলাজিৎ জানান, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অরিজিতের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান তিনি। তিন-চার বছর আগে শিলাজিতের গান মঞ্চে গেয়েছিলেন অরিজিৎ। সেই গান সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন বাংলার গায়ক। তাঁর কথায়, “আমরা একসঙ্গে কোনও কাজ করিনি। আমাদের মাঝেমধ্যে কথাও হয়। আমাকে শ্রদ্ধাও করে। আমার গানের প্রতি ওর ভাল লাগা রয়েছে বলেই মঞ্চে গেয়েছিল।”

সেই দিনের অনুষ্ঠানে তিক্ত অভিজ্ঞতার পরে অরিজিতের কণ্ঠে নিজের গান শুনে মন ভাল হয়ে যায়। নির্দ্বিধায় জানান শিলাজিৎ। তাঁর কথায়, “ওই পুলিশকর্মী আমাকে চেনেন না। কিন্তু বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় গায়ক আমার গান গাইছেন, এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে।”

অরিজিতের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা কিছুটা আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন গায়ক। কিন্তু প্রথম আলাপ আজও মনে আছে। ১০ বছর আগে এক অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এসেছিল তাঁর কাছে— “আমি জিয়াগঞ্জ থেকে অরিজিৎ সিংহ বলছি।” প্রথমটায় বিশ্বাস হয়নি শিলাজিতের। পরে অরিজিৎ ফোন করেন এবং কথা হয় নানা রকমের। পরিকল্পনাও হয়েছে একসঙ্গে কাজ করার। কিন্তু কখনও কাজ করা হয়ে ওঠেনি। আজও মনে পড়লেই ফোন করা যায় অরিজিৎকে। তাই কিছুটা গর্ববোধও করেন শিলাজিৎ।

ব্যক্তি অরিজিৎকে কী ভাবে দেখেন গায়ক? শিলাজিৎ বলেন, “এটুকু বুঝি, অরিজিৎ আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য। ও ভাল শিল্পী তো বটেই। তবে মানুষ হিসাবেও ও যে দায়িত্ব পালন করে, সেটা ওর মতো কেউ বোঝে না। নিজের মাটিতে পা রেখে চলতে হয় কী ভাবে, সেটাও ওর থেকে শেখা উচিত। ওর এই স্বভাবে আমি নিজেকে খুঁজে পাই।”

এর পরেই হাসতে হাসতে শিলাজিৎ বলেন, “ওর সঙ্গে মিল খুঁজে পাই, এটা বললেই লোকে বলবে, ‘কোথায় অরিজিৎ, কোথায় শিলাজিৎ। তবে ওকে নিয়ে আমার গর্ব হয়। কখনও অহঙ্কারও হয়।”

একটি মনে রাখার মতো ঘটনাও ভাগ করে নেন শিলাজিৎ। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। সেই সময়ে টোল ট্যাক্সের লাইনে বেশ কিছু ক্ষণ দাঁড়াতে হত সব গাড়িকে। একমাত্র ভিআইপি লাইনে ভিড় কম থাকত এবং দ্রুত গাড়িগুলি যেতে পারত। কিন্তু ভিআইপি লাইনে কেবল রাজনীতিবিদ ও সরকারি আমলাদের যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু একবার সেই লাইনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়ান বাংলার গায়ক। তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন গাড়ি। স্মৃতি হাতড়ে শিলাজিৎ বলেন, “টোল বুথ থেকে একজন এসে চেঁচিয়ে জানতে চান, ‘কে ভিআইপি আছে এই গাড়িতে?’ তখন আমি কাচ নামিয়ে বলি, ‘অরিজিৎ সিংহকে চেনেন?’ তখন উনি অরিজিৎকে গাড়ির মধ্যে উঁকি দিয়ে খুঁজতে থাকেন।”

হাসতে হাসতে শিলাজিৎ আরও বলেন, “আমি তখন ওঁকে বলি, ‘আমি অরিজিতের দাদা শিলাজিৎ সিংহ।’ তখন উনি বলেন, ‘ও শিলাদা, আমি একদম বুঝতে পারিনি।’ তাই আমার খুব ভাল লাগে অরিজিতের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে। মনে খারাপ লাগা থাকলেও ওকে যখন তখন ফোন করে কথা বলতে পারি।”

কথায় কথায় তাই শিলাজিৎ জানান, সল্টলেকে সেই অনুষ্ঠানের বিতর্ক তাঁর কাছে অতি নগণ্য বিষয়। অরিজিৎ ও অসংখ্য মানুষের থেকে বছরের পর বছর পাওয়া ভালবাসাকেই মনে রাখতে চান তিনি।

উল্লেখ্য, খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে শিলাজিতের গান ‘চানাচুর’। গানটি লিখেছেন বর্ষীয়ান লোকশিল্পী রতন কাহার। ছোট পর্দার শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এ এই গান প্রকাশ্যে আনছেন শিলাজিৎ।

Silajit Majumder Arijit Singh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy