Advertisement
E-Paper

কবিতা-প্রেমে ভেঙে গেল কাঁটাতারের বেড়া

পিয়াস চাকরি করেন ঢাকায়, বাংলা অ্যাকাডেমিতে। নির্মাল্যর পেশা শিক্ষকতা। তবে দু’জনেই কবিতার প্রেমে পড়েছেন শৈশবে। সেই প্রেম থেকেই লেখালেখি শুরু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৮ ০০:২১
বন্ধু: নির্মাল্য মুখোপাধ্যায় (বাঁ দিকে) ও পিয়াস মজিদ। নিজস্ব চিত্র

বন্ধু: নির্মাল্য মুখোপাধ্যায় (বাঁ দিকে) ও পিয়াস মজিদ। নিজস্ব চিত্র

দু’জনেই কবিতা অন্ত প্রাণ। দু’জনেই প্রতিনিধিত্ব করেন শূন্য দশকের। অবশ্য দেশ আলাদা। একজন থাকেন ঢাকায়, অন্যজন মেদিনীপুরে। কবিতার দিনে কবিতার টানই মিলিয়ে দিল দু’জনকে। প্রথমজন পিয়াস মজিদ, দ্বিতীয়জন নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়। দু’জনেই কবি, প্রাবন্ধিকও বটে।

কবিতার টানেই বাংলাদেশ থেকে মেদিনীপুরে এসেছেন পিয়াস। বুধবার বিশ্ব কবিতা দিবসে মেদিনীপুরে একাধিক অনুষ্ঠান হয়। মেদিনীপুর কলেজ-সহ শহরের একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন পিয়াস, সংবর্ধিত হন। তিনি বলছিলেন, “নির্মাল্যর সঙ্গে দেখা হয় খুব ভাল লাগছে। কবিতার এই আনন্দ ভাগ করে নিতেই তো কবিতা দিবসে আমার মেদিনীপুরে ছুটে আসা।” আর নির্মাল্যর কথায়, “পিয়াসের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে ছিল। তবে ও যে এ ভাবে মেদিনীপুরে চলে আসবে ভাবিনি।”

পিয়াস চাকরি করেন ঢাকায়, বাংলা অ্যাকাডেমিতে। নির্মাল্যর পেশা শিক্ষকতা। তবে দু’জনেই কবিতার প্রেমে পড়েছেন শৈশবে। সেই প্রেম থেকেই লেখালেখি শুরু। দু’জনের বন্ধুত্বও লেখার হাত ধরে। জীবনানন্দ দাশের জন্মদিনে ‘দেশ’ পত্রিকায় নির্মাল্যর প্রকাশিত প্রবন্ধ পড়ে পিয়াস তাঁকে ফোন করেছিলেন। তখনই বাংলাদেশের ওই কবি-প্রাবন্ধিক জানিয়েছিলেন, তিনি মেদিনীপুরে আসতে চান। তারপর নির্মাল্যকে খানিক আশ্চর্য করেই কবিতা দিবসে তাঁর এ দেশে আগমন। পিয়াসের কলমে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ মিলিয়ে প্রায় কুড়িটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নির্মাল্যরও কয়েকটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অ্যাকাডেমি থেকে স্মারক পুরস্কারও পেয়েছেন। নির্মাল্য বলছিলেন, “ভাষা দিবসের দিনে আনন্দবাজার পত্রিকায় পিয়াসের লেখা পড়েছিলাম। লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।”

পিয়াস-নির্মাল্যর এই বন্ধুত্বের মিলনে বুধবার বিশ্ব কবিতা দিবস অন্য মাত্রা পায়। মুছে যায় দুই দেশের কাঁটাতারের সীমানা। শহরের তরুণ কবিরা মানছেন, ঢাকা থেকে মেদিনীপুর— পথটা খুব কম নয়। ভাষার প্রতি অনেকখানি আবেগ থাকলেই এ ভাবে আসা যায়। মেদিনীপুরের সংবর্ধনায় আপ্লুত পিয়াস বলছিলেন, “কবিতার অক্ষর মানুষে মানুষে বিভাজনের বিরুদ্ধে সেতুর সৌন্দর্য তৈরি করে। এই যেমন ভৌগোলিক ভাবে অনেকটা দূরে থেকেও নির্মাল্যর কবিতার প্রাণ ছুঁতে পেরেছে আমার প্রাণকে। এখান থেকে কবিতার মানবিক বার্তা নিয়েই বাংলাদেশে ফিরছি। এই দিনটার কথা অনেকদিন মনে থাকবে।”

Friend Poem
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy