E-Paper

ছোট সমস্যাতেও তিনিই ভরসা, বার্তা অভিষেকের

বুধবার তখন দুপুর একটা নাগাদ দাসপুরের জগন্নাথপুরের সভায় পৌঁছন অভিষেক।তৃণমূল প্রার্থী আশিস হুতাইতের সমর্থনেই ছিল ওই সভা।

অভিজিৎ চক্রবর্তী , বিশ্বসিন্ধু দে

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৫
দাসপুরের জগন্নাথপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

দাসপুরের জগন্নাথপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: কৌশিক সাঁতরা।

বন্যা রোধে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান থেকে দাসপুরে সোনার হাব— বড় প্রকল্পের উল্লেখ তো করলেনই। সঙ্গে ছুঁয়ে গেলেন পান চাষ থেকে জল নিকাশির মতো এলাকার ছোটখাটো সমস্যাও। আর সে সব উন্নয়ন কাজে তাঁর উপরেই আস্থা রাখার বার্তা দিলেন তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর তাঁকে দেখেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিটি আসনে আসলে তিনিই প্রার্থী, এমন কথাও বারবার বলেছেন মমতা। অনেকটা সেই সুরেই বুধবার দাঁতনের প্রচার সভায় অভিষেক বলেন, ‘‘চতুর্থবার সরকার তৈরি হওয়ার পরে কেশিয়াড়ি ও দাঁতন বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়নের দায়ভার আমার।’’ স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নের কাজ না করলে, তা-ও করে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘‘বুথ ধরে অঞ্চল সভাপতিরা তালিকা তৈরি করবে। কারও ওপরে নির্ভরশীল থাকতে হবে না। তোমাদের যা কাজ লাগবে, আমি আমার অফিসের প্রতিনিধি পাঠিয়ে উন্নয়নের তালিকা নিয়ে যাব। আমি করে দেব। কোনও পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম প্রধান, এমপি, এমএলএ করুক বা না করুক, দায়িত্ব আমি আমার কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছি।’’ দাসপুরের সভাতেও অভিষেকের আশ্বাস, “দাসপুরের নিচু এলাকাগুলিতে আর সমস্যা থাকবে না। আমি কথা দিচ্ছি, জমা জল পাম্পের সাহায্যে বার করে দেওয়া হবে। ওই এলাকায় পাম্প বসানো হবে।”

বুধবার তখন দুপুর একটা নাগাদ দাসপুরের জগন্নাথপুরের সভায় পৌঁছন অভিষেক।তৃণমূল প্রার্থী আশিস হুতাইতের সমর্থনেই ছিল ওই সভা। এই এলাকার হাজার হাজার যুবক স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে সোনার হাব হয়েও হয়নি। অভিষেকের আশ্বাস, “ভোটের ফলাফল প্রকাশের ছ’মাসের মধ্যে দাসপুরে সোনার হাব যাতে চালু হয়ে যায়, তার ব্যবস্থা করব। হাবের যাবতীয় প্রক্রিয়া সারা। কিছু যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। চিঠিচাপাটি চলছে। এ বার গয়না উৎপাদন হবেই।” ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। অভিষেক বলেন, “কেন্দ্র সরকার ঘাটালবাসীকে ভাঁওতা দিয়েছে। দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করে ঘাটালবাসীর দাবি পূরণে এগিয়ে এসেছে আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার। দাসপুরেও একাধিক নদী-খালের ড্রেজিং চলছে। ঘাটালেও চলছে।কাজের গতি বাড়ানো হবে।” সোনাখালিতে নতুন থানা তৈরির কথাও কার্যত ঘোষণা করেন অভিষেক।

অভিষেকের দ্বিতীয় সভা ছিল দাঁতনের ঘোলাই হাই স্কুল মাঠে দাঁতন বিধানসভার প্রার্থী মানিক মাইতি ও কেশিয়াড়ির প্রার্থী রামজীবন মান্ডির সমর্থনে। দাঁতন ও মোহনপুরে বাণিজ্যিক ভাবে পান চাষ হয়। পান সংরক্ষণের রয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে পান সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ার কথা দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘চাষিরা যাতে উপকৃত হন, সেটা আমি দেখব।’’ দাঁতনে পৃথক থানা তৈরি, কেশিয়াড়িতে অলচিকি মাধ্যম স্কুলের দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘‘মানিক মাইতি ও রামজীবন মান্ডিকে আপনারা জেতান। কেশিয়াড়ি ও দাঁতনের সার্বিক দায়ভার আমি আমার কাঁধে নিয়ে যাচ্ছি এই সভা থেকে। যা লাগবে আমরা আছি।’’

অভিষেক ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাজ্য সরকারের কোনও দায়িত্বে তিনি নেই। তাহলে একক ভাবে তিনি কী ভাবে উন্নয়ন করবেন, প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরে কোনও উন্নয়ন করেনি তৃণমূল। এখন ভোট এসেছে বলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে।’’ দাসপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন দত্তের খোঁচা, ‘‘সোনার হাব নিয়েও রাজনীতি করছে তৃণমূল। এক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধনের পরেও যে হাব চালু হয়নি, ছ’মাসের মধ্যে তার চালুর প্রতিশ্রুতির মানে কী?’’ দাসপুরের বাসিন্দা, অন্ধ্রপ্রদেশে কর্মরত স্বর্ণশিল্পী সংগঠনের সম্পাদক কার্তিক খাটুয়ার কথায়, ‘‘বহু যুবক ওই হাবের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। উৎপাদন শুরুর আগে নিরাপত্তাও জোরদার করা জরুরি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Abhishek Banerjee Daspur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy