এই সড়ক শহরের জীবনরেখা। সম্প্রসারণের পরে তার উদ্বোধন করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। খড়্গপুর শহরের সেই ওড়িশা ট্রাঙ্ক(ওটি) রোডে ফের দুর্ঘটনা। মাত্র ছ’দিনের ফের মৃত্যু।
রবিবার প্রাতর্ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে খড়্গপুর কলেজের এক শিক্ষাকর্মীর। ইন্দায় খড়্গপুর কলেজের কাছেই ওটি রোড পেরনোর সময় খড়্গপুরগামী হলদিয়া-ধুমসাই রুটের একটি বাস শেখরচন্দ্র ধর রায় (৫৭) নামে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। শেখরবাবুর বাড়ি ইন্দার সারদাপল্লিতে। দুর্ঘটনার পরে বাসটি আটক করে চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১০ এপ্রিল এই সড়কের একই জায়গায় একই ভাবে পিক-আপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল এক মহিলার। মালঞ্চর বাসিন্দা বছর বত্রিশের মানসী দাস সে দিন স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে মোটর সাইকেলে সারদাপল্লিতে বাপের বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল মানসীদেবীর।
শহরের ইন্দা মোড় থেকে চৌরঙ্গি পর্যন্ত প্রায় ১২০ ফুট চওড়া ওটি রোড দীর্ঘ দিন ধরে জবরদখলের জেরে সংকীর্ণ হতে হতে ১৮ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছিল। ওই সড়কে নিত্য যানজটে নাকাল শহরবাসীর দাবি ছিল রাস্তা সম্প্রসারণের। বহু টালবাহানার পরে সদ্য রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ করেছে পূর্ত দফতর। রাস্তা ১০ মিটার চওড়া হয়েছে। কিন্তু জবরদখল সরিয়ে সর্বত্র ফুটপাথ হয়নি। ফুটপাথ হয়েছে শুধু চৌরঙ্গি থেকে ইন্দা নিউটাউন পর্যন্ত ২৫০ মিটার অংশে। ফলে, পথ চলতে সমস্যা হচ্ছে।
এ দিকে, সম্প্রসারিত সড়ক মসৃণ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত গতিতে ছুটছে গাড়ি। কমলাকেবিনের কাছে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও সম্প্রসারিত সড়কের আর কোথাও যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। কিছু অংশে ট্রাফিক পুলিশের তরফে গার্ডরেল বসানো হলেও রাতের অন্ধকারে সেগুলিদেখতে না পাওয়ায় বিপদের মুখে পড়ছেন বাইক আরোহীরা। বাড়ছে দুর্ঘটনা। খড়্গপুরের কলেজের শিক্ষিকা ইন্দার বাসিন্দা সোমালি নন্দী বলেন, “কোনও যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই, রাস্তার পাশে হাঁটার জায়গা নেই। দু’ধারে দোকানপাট। এই অবস্থায় পরপর দুর্ঘটনায় আমরা শঙ্কিত।”
ইন্দার এই এলাকা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা খড়্গপুর কলেজ ছাড়াও রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক, বেসরকারি সংস্থার অফিস, ইলেক্ট্রনিক্স ও গাড়ির শো-রুম। তাছাড়া, রেলশহরের প্রবেশপথ হওয়ায় গাড়ির ভিড় লেগেই রয়েছে। ব্যস্ত রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য অসতর্ক হলেই পিষে দিচ্ছে গাড়ি, পিক-আপ ভ্যান বা ট্রাক-বাস। এ দিনের দুর্ঘটনায় মৃত শেখরবাবুর স্ত্রী স্নেহাদেবী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “এই রাস্তায় নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল আমার স্বামীর প্রাণ কেড়ে নিল। এই মৃত্যু মিছিল বন্ধ হোক।”
খড়্গপুরের এসডিপিও সন্তোষ মণ্ডলের অবশ্য আশ্বাস, “আমরা ওটি রোডে কিছু স্পিড ব্রেকার ও ট্রাফিক পুলিশ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। সেই সঙ্গে এই সড়ক-সহ খড়্গপুর শহরের সর্বত্র সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।”