×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ মে ২০২১ ই-পেপার

সালিশিতে জরিমানার অভিযোগ

দাবির টাকা না পেয়ে খুনের হুমকি

নিজস্ব সংবাদদাতা
তমলুক ২২ মার্চ ২০১৮ ০৬:৩০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সালিশি বসিয়ে এক প্রৌঢ়কে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠল গ্রামের মাতবব্বরদের বিরুদ্ধে। এমনকী সালিশি সভায় মহিলার কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্য়াতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

জরিমানার টাকা দিতে না পারায় মাতব্বররা দুই পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। হুমকির জেরে গত একমাস ধরে গ্রামছাড়া ওই প্রৌঢ় এবং মহিলা। তমলুক থানার রঘুনাথপুর-২ পঞ্চায়েতের মানিকখুন্ডি গ্রামে ওই ঘটনায় দুই পরিবারের তরফেই নিরাপত্তা ও অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়ে মঙ্গলবার রাতে তমলুক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের কাউকে বুধবার রাত পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের মানিকখুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা অসিত আড়ির ব্যাগ ছাপাই কারখানা রয়েছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী একটি পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ, প্রতিবেশী পরিবারের এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে অসিতবাবুর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে গ্রামের বাসিন্দা ও এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত তাপস শাসমলের নেতৃত্বে এক দল মাতব্বর গত বছর ২৯ অক্টোবর গ্রামে সালিশি সভা বসায়। সভায় অসিতবাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু অসিতবাবু তখন টাকা দিতে না পারায় মাতব্বররা তাঁকে দিয়ে দু’বছরের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার মুচলেকা লেখায় বলে অভিযোগ।

Advertisement

ঘটনার পর অপমানে ওই মহিলা নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে মেচেদায় বাপের বাড়িতে চলে যান। অসিতবাবুর অভিযোগ, ‘‘ওই মহিলা গত ২৮ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ি ফিরলে মাতব্বররা ওই রাতে ফের আমাদের দু’জনকে জোর করে সালিশি সভায় বসায়। গ্রামের মন্দিরে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়েও দেয়। এর পর দু’জনকে একটি ঘরে আটকে রেখে ছবি তুলে রাখে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘মাতব্বররা শর্ত দেয় ওই মহিলাকে দু’বছর আমার বাড়িতে রাখতে হবে না হলে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।’’

মহিলার অভিযোগ, ‘‘সালিশি সভায় আমার নাবালিকা মেয়ের কাছে মোবাইল ফোন আছে কি না দেখার অজুহাতে তাকে যৌন নির্যাতন করে মাতব্বররা।’’ মঙ্গলবার তিনি তমলুক থানায় মাতব্বরদের ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অসিতবাবু জানান, জরিমানার টাকা না পেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি মাতব্বররা তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় ও তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হুমকির জেরে তিনি স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

গ্রামে সালিশি সভা বসানোর অভিযোগ স্বীকার করেছেন তাপসবাবু। তাঁর যুক্তি, ‘‘অসিতবাবুর সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক নিয়ে তাঁর স্বামী গ্রাম কমিটির কাছে অভিযোগ জানান। তাই ওদের দু’জনকে সালিশি সভায় ডাকা হয়। সভায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অসিতবাবুকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। কাউকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়নি। ওরা নিজেরাই বাড়ি ছেড়ে গিয়েছে।’’

যদিও অভিযোগ দায়ের করার পরেও তাপস-সহ অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন ওই দুই পরিবার। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই মহিলার মেয়ের মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। জেলার পুলিশ সুপার ভি সলোমন নেসাকুমার বলেন, ‘‘এমন কোনও ঘটনা শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

এদিকে মাতব্বরদের অনেকেই তৃণমূলের কর্মী হওয়ায় এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের রঘুনাথপুর-২অঞ্চল সভাপতি শিলাদিত্য আদক বলেন, ‘‘সালিশি সভা বসিয়ে জরিমানা, জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমরা এ সব সমর্থন করি না। এতে দলীয় কর্মীরা জড়িত থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক।’’

Advertisement