Advertisement
E-Paper

দুর্ঘটনায় মৃত্যু বালিকার, দাবি উড়ালপুলের

ফের দুর্ঘটনা। ফের মৃত্যু। নারায়ণগড়ের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের মকরামপুর বাজার এলাকায় না-আছে উড়ালপুল, না ট্র্যাফিক পুলিশের ব্যবস্থা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৭ ০১:১১
স্নেহা পাহাড়ি

স্নেহা পাহাড়ি

ফের দুর্ঘটনা। ফের মৃত্যু।

নারায়ণগড়ের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের মকরামপুর বাজার এলাকায় না-আছে উড়ালপুল, না ট্র্যাফিক পুলিশের ব্যবস্থা। পারাপারের সময় দুর্ঘটনাও লেগেই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়েরা ওই এলাকায় উড়ালপুল বা সাবওয়ের দাবি তুলছেন। শুক্রবার সেখানেই পিক-আপ ভ্যানের ধাক্কায় স্নেহা পাহাড়ি (৭) নামে এক বালিকার মৃত্যুতে উড়ালপুলের দাবিই ফের সামনে এল।

এ বার অবশ্য টনক নড়েছে প্রশাসনের। নারায়ণগড়ের বিডিও মানিক সিংহ মহাপাত্রও মানছেন, ওই এলাকায় একটা পারাপারের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘‘এ নিয়ে পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠাব।” পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকারই বাসিন্দা স্নেহা। শুক্রবার তার জন্মদিন ছিল। সেই কারণে জাতীয় সড়কের পূর্ব দিকের কালীমন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন তার মা ছায়াদেবী ও জেঠিমা শ্রাবণীদেবী। সড়কের পশ্চিম দিকে দাদু ত্রিদিববাবুর হাত ধরে দাঁড়িয়েছিল স্নেহা। মায়ের সঙ্গে মন্দিরে যাওয়ার জন্য সে দাদুর হাত ছেড়ে জাতীয় সড়ক পার হতে যায়। তখনই পিক-আপ ভ্যানটি তাকে ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়ে স্নেহা। মকরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল স্নেহা। চোখের সামনে এমন দুর্ঘটনা দেখে জ্ঞান হারান ছায়াদেবী। স্নেহার বাবা উজ্বলবাবুর ক্ষোভ, ‘‘এত দিন এত লোক মারা গেল। সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকে না। আমরা উড়ালপুল বা সাবওয়ের জন্য কত দাবি করেছিলাম। কিন্তু হয়নি। সরকারি উদাসীনতাই আমার মেয়ের প্রাণ কেড়ে নিল। আমি চাই আর যেন কাউকে কাঁদতে না-হয়।” ওই বাজার এলাকায় সব সময়েই ভিড় থাকে। সড়কের পূর্ব দিকে কালীমন্দির ছাড়াও রয়েছে হাইস্কুল, ব্যাঙ্ক। ফলে, পারাপার লেগেই থাকে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে ওই এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় চার জন মারা গিয়েছেন। জখম হয়েছেন অনেকে। এ দিনের দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় লোকজন ফের উড়ালপুল বা সাবওয়ে তৈরির দাবি তুলেছেন। স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি পিন্টু অধিকারী বলেন, “জাতীয় সড়কে সিভিক ভলান্টিয়ার মাঝেমধ্যে থাকে। কিন্তু লাভ হয় না। এখানে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বহুদিন উড়ালপুলের দাবি জানিয়ে আসছি। তা না-হওয়াতেই মেয়েটাকে অকালে মরতে হল।”

পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, ওই এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময়েই সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকে।

Accident Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy