Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের ভীম নাম, জাঁকের পুজোয় নেতারা

কে নেই মঞ্চে! তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পড়্যা থেকে শুরু করে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, যুব তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:০৬
লালদিঘির ভীম। নিজস্ব চিত্র

লালদিঘির ভীম। নিজস্ব চিত্র

ভীমপুজোর উদ্বোধন। সেই মঞ্চে হাজির একঝাঁক তৃণমূল নেতা।

কে নেই মঞ্চে! তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পড়্যা থেকে শুরু করে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, যুব তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি প্রমুখ। ছিলেন ছোট-মাঝারি আরও অনেক নেতা। বুধবার রাতে মেদিনীপুর শহরের কর্নেলগোলার লালদিঘিতে এই ছবি চোখে পড়েছে।

সামনেই পুরভোট। ভোটের মুখে ভীমপুজোর জাঁকও যেন বেশি। লালদিঘির ভীমপুজোর নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সৌরভ বসু। সৌরভের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই পুজো উদ্বোধনে গিয়েছিলেন অজিতেরা। এলাকায় গুঞ্জন, সৌরভ না কি পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হতে চান। দলের বিভিন্ন মহলে সেই ইচ্ছেপ্রকাশও করেছেন। সে সব প্রসঙ্গ এড়িয়ে সৌরভ শুধু বলেন, ‘‘আমাদের এখানে প্রত্যেক বছরই ভীমপুজো হয়। এ বার বড় করে হচ্ছে।’’

পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে ধুমধাম করেই ভীমপুজো হয়। ভীমকে কোথাও চাষবাসের দেবতা, কোথাও আবার শক্তির দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। সমৃদ্ধির কামনায় পুজো করা হয় দ্বিতীয় পাণ্ডবকে। বিশালাকার মূর্তি এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। মনস্কামনা পূরণে ভীমের গলায় ঝোলানো হয় লম্বা মালা। কোথাও ক্লাব, কোথাও অন্য সংগঠনের উদ্যোগে ভীমপুজো হয়। পুজো কমিটিগুলো সামনাসামনি অরাজনৈতিক হলেও পিছনে কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের ‘মদত’ থাকে। লালদিঘির সর্বজনীন ভীমপুজো যেমন স্থানীয় ‘শক্তি সঙ্ঘে’র উদ্যোগে হচ্ছে। ক্লাবের সভাপতি সৌরভ বসু। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পুজো, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি টক্কর চলছে। রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী, জন্মাষ্টমী— সবেতেই দেখা গিয়েছে এই ছবি।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি পুজোর সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে থাকায় অন্যায় কিছু দেখছেন না। অজিত বলেন, ‘‘ভীমপুজো পবিত্র উৎসব। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন পুজোর আয়োজন করে। আমরা থাকি।’’ বিজেপিকে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘ভীমপুজো কারও একার কিংবা কোনও দলের উৎসব নয়।’’ অজিতের সংযোজন, ‘‘আমরা রামকে শ্রদ্ধা করি মানে রহিমকে অশ্রদ্ধা করব তা নয়। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে ভালবাসি।’’ তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেয় তৃণমূল। বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ, তৃণমূল ঠেকে শিখছে। ভোটের মুখে হিন্দু ভাবাবেগকে ছুঁতে চাইছে। বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাশের কথায়, ‘‘আগে কখনও তো ভীমপুজোয় তৃণমূল নেতাদের ভিড় দেখিনি। ভোটের জন্য বোধহয় ওরা ভীমের নাম শুরু করেছে!’’

বৃহস্পতিবার ভীমপুজো উপলক্ষে লালদিঘিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। আজ, শুক্রবার অন্নকূট বিতরণ হবে। সামনে পুরভোট বলেই কি ভীমপুজোয় এত জাঁক? সৌরভ অবশ্য বলছেন, ‘‘এতে রাজনীতির কিছু নেই।’’

Bhimpuja TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy