E-Paper

মরাঠাভূমে ব্রাহ্মণ নেতার উত্থানে চর্চা শুরু দিল্লিতে

বৃহন্মুম্বই পুরসভা বা বিএমসি-সহ গোটা মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে ব্রাহ্মণ নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীসের নেতৃত্বে বিজেপির দাপট দেখা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রে এক সময়ের ‘মরাঠা স্ট্রংম্যান’ শরদ পওয়ার ও ‘মরাঠি-অস্মিতা’-র মন্ত্র আওড়ানো ঠাকরে পরিবার এককাট্টা হয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪
দেবেন্দ্র ফডণবীস।

দেবেন্দ্র ফডণবীস। — ফাইল চিত্র।

মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত মরাঠারা বসতেন সিংহাসনে, তাঁরা হতেন ছত্রপতি। আর ব্রাহ্মণরা হতেন তাঁদের মন্ত্রী বা পেশোয়া। আজ মরাঠাভূমে সেই মরাঠা রাজনীতিকেরাই কোণঠাসা। এ বারের পুরভোটে এক ব্রাহ্মণ নেতা টেক্কা দিয়ে গিয়েছেন মরাঠাদের উপর। এ বার তার ঢেউ দিল্লির মসনদে এসে কোথায় লাগবে, তা নিয়ে সপ্তাহান্তে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

বৃহন্মুম্বই পুরসভা বা বিএমসি-সহ গোটা মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে ব্রাহ্মণ নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীসের নেতৃত্বে বিজেপির দাপট দেখা গিয়েছে। রাজনীতিকরা মনে করছেন, মহারাষ্ট্রে এক সময়ের ‘মরাঠা স্ট্রংম্যান’ শরদ পওয়ার ও ‘মরাঠি-অস্মিতা’-র মন্ত্র আওড়ানো ঠাকরে পরিবার এককাট্টা হয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। মহারাষ্ট্রে দুই নেতা ছিলেন। একজন, যাঁর টানে মানুষ ছুটে আসতেন। তিনি বাল ঠাকরে। দ্বিতীয় জন, যিনি মানুষের কাছে ছুটে যেতেন। তিনি শরদ পওয়ার। মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচন দুই নেতারই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মুম্বইয়ে উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে এক হয়েও বিজেপিকে ঠেকাতে পারেননি। একই ভাবে পুণে ও পিম্পরি চিঞ্চওয়াড়ে পুরসভা এলাকায় শরদ পওয়ার ও তাঁর ভাইপো অজিত পওয়ারের দল এক হয়েও জিততে পারেনি।

মুম্বই দেশের আর্থিক রাজধানী। বৃহন্মুম্বই পুরসভার বছরের বাজেট প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা অনেক রাজ্যের বাজেটের সমান। এই পুরসভা বিজেপি দখল করার পরে দিল্লিতে বিজেপি ও বিরোধী, দুই শিবির মনে করছে— এই পুর নির্বাচনের সবথেকে বড় ফায়দা তুলেছেন দেবেন্দ্র ফডণবীস। কেন্দ্রে ও বিজেপির সংগঠনে অমিত শাহ ও যোগী আদিত্যনাথদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতের নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে দেবেন্দ্র আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। বছর খানেক আগে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি শুধু বিজেপিকে মহারাষ্ট্রে পুর নির্বাচনে জয় এনে দেননি, এনসিপি-র দুই শিবির, ঠাকরে পরিবারের দুই গোষ্ঠী এবং কংগ্রেসকেও রাজনৈতিক ভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে পওয়ার পরিবার ও ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়েছিলেন। মুম্বইয়ের পুরসভায় হারের পরে আজ প্রথম বার মুখ খুলে উদ্ধব ঠাকরে তাই বলেছেন, বিজেপি বিশ্বাসঘাতকতা করে জিতেছে। ‘মরাঠি মানুষ’ এই পাপ ক্ষমা করবেন না।

ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা মহারাষ্ট্রে ধাক্কা পাওয়ার পরে বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ এবং রণনীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুম্বইয়ে কংগ্রেসের খারাপ ফলের জন্য মুম্বই কংগ্রেসের সভানেত্রী বর্ষা গায়কোয়াড়ের ইস্তফার দাবি উঠেছে। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা বলছেন, কংগ্রেস একা লড়ে লাতুর পুরসভা জিতেছে। কোলাপুর, ভিওয়ান্ডি-নিজ়ামপুর, চন্দ্রপুর পুরসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে কংগ্রেস ভবিষ্যতে একলা চলো-র নীতি নিতে চাইছে কি না, তা নিয়ে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মহারাষ্ট্রে বিজেপির পাশাপাশি আসদুদ্দিন ওয়েইসির এমআইএম-ও অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এক সময় হায়দরাবাদের নিজ়ামদের অধীনে ছিল মহারাষ্ট্রে মরাঠাওয়াড়া এলাকা। সেই এলাকায় ওয়েইসির দল সাফল্য পেয়েছে। ইউপিএ সরকারের এক প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে, বিজেপি-বিরোধী সংখ্যালঘু ভোটও ইন্ডিয়া জোটের বাইরে নতুন ঠিকানা খুঁজছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Maharashtra

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy