জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন কর্মীদের পাকিস্তানের দু’টি উপদূতাবাস (কনসুলেট) ছাড়তে বলল আমেরিকা। বুধবার মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে করাচি এবং লাহৌরে থাকা দু’টি উপদূতাবাসের ওই কর্মীদের পাকিস্তান ছাড়তেও বলা হয়েছে। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কর্মীরা লাহৌর এবং করাচির উপদূতাবাস ছাড়ুন। সে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তগত ঝুঁকির বিষয়ে সবিস্তার কিছু জানানো হয়নি। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে করাচির ঘটনা প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিক্ষোভ বা হামলার ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছিল পড়শি দেশ পাকিস্তানের করাচিতে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খামেনেইয়ের ছবি হাতে বেশ কয়েক জন জড়ো হন করাচির মার্কিন উপদূতাবাসের বাইরে। তাঁদের মুখে ছিল আমেরিকাবিরোধী স্লোগান। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে উপদূতাবাসের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ আটকাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপদূতাবাসের কিছু জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। গত রবিবার করাচিতে মার্কিন উপদূতাবাসের সামনে তৈরি হওয়া ওই বিক্ষোভ সামাল দিতে গুলি চালিয়েছিল পুলিশও। তার পরেই জানা যায়, ১০ জনের প্রাণ গিয়েছে।
মঙ্গলবারই ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছিল, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মার্কিন ভিসার জন্য ইন্টারভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করা হচ্ছে। এ বার জরুরি কাজে যুক্ত নয়, এমন কর্মীদের উপদূতাবাস এবং পাকিস্তান ছাড়তে বলল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।