E-Paper

‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ শুনেই ফিরল হোটেল-রাজনীতি

বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি-শিন্দে-সেনার জোট অঙ্কের হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর তাতেই তৈরি হয়েছে জল্পনা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০
উদ্ধব ঠাকরে।

উদ্ধব ঠাকরে। — ফাইল চিত্র।

‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ থাকলে তাঁদের দলের মেয়র পেতে পারে বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি)। পুরনির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের এই মন্তব্যে আতঙ্কে বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙনের মূল কান্ডারি তথা উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। শনিবার বালাসাহেব-পুত্র উদ্ধব জানান, মুম্বইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি)-র মেয়রকে বসানো তাঁর স্বপ্ন। ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “বিজেপি মুম্বই বন্ধক রাখতে চায়। তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে ভোট জিতেছে। মরাঠিরা এই পাপ কখনওই ক্ষমা করবে না।” উদ্ধবের এই মন্তব্যের পরেই মুম্বইয়ে ফিরেছে হোটেল-রাজনীতি। শিন্দের দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি পাঁচ তারা হোটেলে রাখা হয়েছে।

বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি-শিন্দে-সেনার জোট অঙ্কের হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর তাতেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, বিএমসি-র নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ঠাকরে ভাইদের আর মাত্র আট জন নির্বাচিত সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এক সময় বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়তে গিয়ে শিবসেনা ভেঙেছিলেন একনাথ শিন্দে। এ বারে সেই ছকেই তাঁর দলের প্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে আনা হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। শিন্দের দলের প্রতিনিধিদের হোটেলে রাখার ফলে বিরোধী দলগুলির ফের একজোট হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। শিন্দের দলের নির্বাচিতরা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলালে বিএমসি ফের বাল ঠাকরের অনুগামীদের হাতেই যাবে।

এরই মধ্যে মহারাষ্ট্র পুরনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, ভোটের আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র (ইভিএম)-র ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে নতুন একটি যন্ত্র ‘প্রিন্টিং অক্সিলিয়ারি ডিসপ্লে ইউনিট’ বা ‘পাদু’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এই যন্ত্রটি নিয়ে ভোটারদের তো বটেই, রাজনৈতিক দলগুলির এজেন্টদেরও সম্যক কোনও ধারণা না থাকায় ভোট দেওয়ার সময় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি এক জায়গার ভোটারের নাম অন্য জায়গা দেখানো, বুথ নম্বর না মেলা-সহ নানা অব্যবস্থার শিকার হতে হয় ভোটারদের। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে চূড়ান্ত ভোগান্তি হয় ভোটারদের। এমনকি মহারাষ্ট্র সরকারে বিজেপির মন্ত্রী গণেশ নাইকও নাম-বিভ্রাটের শিকার হন বলে অভিযোগ। এই সব কারণে এ বারের মহারাষ্ট্র পুরনির্বাচনে সামগ্রিক ভোটদানের হার ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ বলে দাবি করছে একাধিক মহল। তাদের অভিযোগ, ভোটদানের হার এত কম হওয়ার কারণেই নির্বাচন কমিশন কোনও হিসেব দেয়নি! একাধিক মহল থেকে এই অব্যবস্থা ইচ্ছাকৃত বলে দাবি করে অভিযোগ করা হয়েছে, মহারাষ্ট্র পুরভোটে নির্বাচন কমিশনই ‘মহা-জালিয়াতি’ করেছে বিজেপিকে সুবিধাপাইয়ে দিতে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mumbai Maharashtra

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy