গোঁজ প্রত্যাহারে
স্বস্তি দুই শিবিরেই
নিজস্ব সংবাদদাতা
ঘাটাল: মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন যেতেই গলল বরফ। প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নিলেন ঘাটাল পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী অনুপ চক্রবর্তী।
শেষ মুহূর্তে ঘাটাল ও রামজীবনপুর পুরসভায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিজেপির দুই গোঁজ প্রার্থীও। অবশ্য ঘাটালে কংগ্রেস-সিপিএমের সমঝোতা শেষমেশ হল না। দু’টি আসন ছাড়া বাকি ওয়ার্ডগুলিতে আলাদা ভাবে লড়াই করবে দুই দল।
এ বার প্রথম থেকেই ঘাটাল পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন অনুপ চক্রবর্তী। দাবিদার ছিলেন দলের পুরনো মুখ অজিত দে-ও। প্রথম তালিকায় অনুপের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দল। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে অজিত দে-কে প্রার্থী করা হয়। দ্বিতীয় তালিকায় অবশ্য এই দুই ওয়ার্ডে প্রার্থীর রদবদল হয়। ১৬ থেকে সরিয়ে অনুপকে পাঠানো হয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। আর অজিতকে আনা হয় ১৬ নম্বরে। এরপরই ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর পদে ইস্তফা দিয়ে ১৬ নম্বরে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন অনুপ।
তালিকা প্রকাশের পরে ঘাটাল-সহ মহকুমার পাঁচ পুর এলাকাতেই তৃণমূলের ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামনে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘাটাল মহকুমায় নির্দল কাঁটা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে শাসক দল। তবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোঁজ প্রার্থীকে নিয়ে চিন্তা ছিল। ঘাটাল শহরের প্রাণকেন্দ্র কুশপাতা। সেখানে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে নির্দল অনুপের মনোনয়ন প্রত্যাহারে তৎপর হন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ক’দিনে দফায় দফায় তাঁর বাড়ি গিয়েছেন জেলা নেতা তথা পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি, জেলা সভাপতি আশিস হুতাইত, সাংসদ প্রতিনিধি রামপদ মান্না, তৃণমূল নেতা দিলীপ মাজী, অরুণ মণ্ডলরা। পুরসভার দলের পর্যবেক্ষক কৌশিক কুলভী-সহ অন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারাও তাঁকে বোঝাতে যান। শেষমেশ শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন পেয়ে অনুপ মনোনয়ন তুলেছেন। অনুপ বলছেন, “আমি তৃণমূলের সৈনিক। জেলা নেতৃত্ব আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেও ফোন এসেছিল। তাই নিবার্চন থেকে সরে এসেছি।”
ক্ষীরপাই পুরসভার ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূলের দুই গোঁজ প্রার্থী ছিল। এ দিন ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তারক মণ্ডল মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও ৪ নম্বরে সুনীতি হালদার মনোনয়ন তোলেননি।
ঘাটাল ও রামজীবনপুরে বিজেপির দুই গোঁজ প্রার্থী অবশ্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ঘাটাল পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সায়ন সেনগুপ্ত এবং রামজীবনপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না লৌহ দু’জনই এ দিন প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেন। ফলে, কিছুটা স্বস্তি পদ্ম শিবিরে। তবে মনেনোয়নের শেষ দিনেও কংগ্রেস-সিপিএম আসন সমঝোতা হয়নি। ঘাটাল পুরসভার ১০ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শুধু কংগ্রেস ও সিপিএম একসাথে লড়বে। বাদ বাকি ওয়ার্ডে আলাদা ভাবে লড়াই করবে দু’দলই।