×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২২ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

সেরে উঠেও ফের পজ়িটিভ, চিকিৎসকের সংক্রমণে উদ্বেগ

নিজস্ব সংবাদদাতা
খড়্গপুর ০৮ অগস্ট ২০২০ ০৬:৫৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দিন কয়েক স্বস্তি ছিল। আক্রান্তের হার কমে যাওয়াকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসাবে দেখছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। ফের রেলশহরে দাপট দেখাল করোনা। উদ্বেগ বাড়িয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেও দ্বিতীয়বার পজ়িটিভ হয়ে গেলেন রেল হাসপাতালে প্রধান চিকিৎসক। মৃত্যু হল একজনের!

বৃহস্পতিবার রাতের করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী, খড়্গপুর শহরের ১৪ জন, গ্রামীণের ৬ জন, সবংয়ে ৫ জন, নারায়ণগড়ের ৫ জন, কেশিয়াড়িতে ২ জন ও দাঁতন-২ ব্লকে ১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও খড়্গপুর শহরে রেলের মুখ্য হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসকও ফের করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন। গত ১৫ জুলাই প্রথমবার পজ়িটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বরিষ্ঠ ওই চিকিৎসক। সুস্থ হয়ে দিন কয়েক আগে বাড়িতেও এসেছিলেন।

হাসপাতালে কাজে যোগ দেওয়ার আগে স্বেচ্ছায় করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয়বার পজ়িটিভ হয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রেলের স্বাস্থ্যকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে গুরুতরভাবে দেখছেন না। রেলের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট এস এ নাজমি বলেন, “আইসিএমআরের রিপোর্টে অনুযায়ী এটা স্বাভাবিক ঘটনা। একজন করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে ৬০ দিন পর্যন্ত তাঁর শরীরের ভিতরে সংক্রমণের মৃত কোষ থেকে যেতে পারে। আরটিপিসিআরের মতো যন্ত্র এত বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন যে সেই মৃত কোষও ধরা পড়ে যায়। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। আমাদের ওই চিকিৎসক সুস্থ রয়েছেন।”

Advertisement

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শহরের সাঁজোয়ালের রেলকর্মী ১ জন দম্পতি, ট্রাফিকের ১ জন আরপিএফ, মথুরাকাটির রেল পরিবারের ৩ জন সদস্য, মালঞ্চ ও জৈন নগরের ২জন অবসরপ্রাপ্ত-সহ ৮ জন আছেন। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস পাল বলেন, “গত কয়েকদিনের তুলনায় নতুন করে এত জন সংক্রমিত হওয়ায় একটু তো উদ্বেগ আছেই। অধিকাংশ স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।”

মহকুমার মধ্যে সবং ব্লকের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সেখানে নতুন ৫ আক্রান্তের মধ্যে বিষ্ণুপুরের বছর পঞ্চান্নের এক ব্যক্তি। যাঁর মৃত্যুর পরে রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগতে থাকায় তাঁকে সবং গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার মেদিনীপুর মেডিক্যালে রেফার করার সময় পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিজনেরা দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনলেও গ্রামবাসীরা দাহ করতে দেননি। জেলা থেকে বিশেষ গাড়ি করে দেহটি সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ব্লক স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সবং ব্লকে প্রায় ৩৭জন করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, সবংয়ে একজন মৃতের করোনা পরীক্ষার ফল পজ়িটিভ এসেছে। সবং-সহ সর্বত্র র্যাপিড পরীক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement