E-Paper

হরমুজের দিকে নজর বন্দরের

ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নার্ভ সেন্টার’ হল হলদিয়া বন্দর।

আরিফ ইকবাল খান

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৬

পশ্চিমের এশিয়ার দেশগুলি থেকে সহজে তেল আমদানির রাস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দেগে বন্ধ করে দিতে চাইছে ইরান। ওই ‘রাস্তা’ হরমুজ প্রণালীই না কি তাদের সম্পূর্ণ দখল রয়েছে বলে দাবি হয়েছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ (আইআরজিসি) বাহিনীর। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চিন্তা বেড়েছে ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশের। এ রাজ্যের হলদিয়া বন্দরেরও ওই পথ ধরে আসে বহু তেলের ট্যাঙ্কার। তাই বন্দরের তরফে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে হলদিয়া বন্দরের উপর কোনওপ্রভাব পড়েনি।

ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নার্ভ সেন্টার’ হল হলদিয়া বন্দর। এখান দিয়ে মূলত কয়লা, ইস্পাতের মতো পণ্য পরিবহণের সঙ্গেই পেট্রোলিয়াম, তেল ও তরল পণ্য আমদানি করা হয়। তাছাড়া, অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানিও হয়, যা হলদিয়া রিফাইনারি এবং কাছাকাছি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের চাহিদা মেটায়। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে হলদিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসও আসে। এ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হল সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত এবং কাতার।

পশ্চিমের এই দেশগুলি থেকে জাহাজ ওমান এবং ইরানের মধ্যে সরু সমুদ্র প্রণালী ‘হরমুজ’ দিয়ে যাতায়াত করে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার চওড়া সরু এই প্রণালী তাই জলপথের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রণালীই বর্তমান যুদ্ধের মাঝে ইরানের ‘সম্পূর্ণ দখল’ গিয়েছে বলে খবর। বর্তমানে প্রণালীর আশেপাশে দাঁড়িয়ে শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের বাধা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিন্তায় রয়েছে এ দেশের বন্দরগুলিও।

হলদিয়া বন্দর সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়া থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের জন্য প্রধানত তিনটি অয়েল জেটি ব্যবহার করা হয়। হলদিয়ার ৩ নম্বর অয়েল জেটিতে ওই তেল আমদানির জন্য পরিকাঠামো রয়েছে। এখানে বড় ট্যাঙ্কার ‘বার্থ’ করতে পারে। ডকের ভিতরে কয়েকটি বার্থে ‘লিকুইড বাল্ক’ রাখা যায়।

‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্টে’র (হলদিয়া বন্দর) ম্যানেজিং ডিরেক্টরে এ জয়সীমা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে হলদিয়া বন্দরের উপর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে তাঁরা পরিস্থিতির উপর সবসময় নজর রাখছেন। জয়সীমা বলেন, ‘‘পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে আমাদের।’’ বন্দরের আরেক আধিকারিক তথা জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) প্রবীণ দাস বলেছেন, ‘‘হরমুজ প্রণালী থেকে হলদিয়ায় জাহাজ আসতে সাধারণত ২৫-৩০ দিন লাগে। যে জাহাজগুলি ইতিমধ্যে বেরিয়েছে, তাদের গতিপথ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আপাতত কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা হরমুজ প্রণালীর ঘটনাগুলি নজর রাখছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Haldia Strait of Hormuz

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy