গত এপ্রিল মাসে খড়্গপুর শহরে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের আগামী বুধবার দু’দিনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরে আসছেন মমতা। ওইদিন মেদিনীপুর শহরে দলীয় সভায় যোগ দেবেন তিনি। পরদিন, বৃহস্পতিবার খড়্গপুরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
আগামী বুধবার, ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বর্ষপূর্তির দিন মেদিনীপুরের সমাবেশ থেকেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচির সূচনা করবেন মমতা। ‘ব্রিটিশ ভারত ছাড়ো’-র আদলে তৃণমূলের এই কর্মসূচির স্লোগান ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’। পরদিন, বৃহস্পতিবার খড়্গপুরের কলেজ মাঠে প্রশাসনিক সভা থেকে নানা পরিষেবা প্রদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক হয়েছে, বেলা ১২টা শুরু হবে খড়্গপুরের সভা। সভায় জমির পাট্টা, সাইকেল বিলি-সহ নানা প্রকল্পে জেলার মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। খড়্গপুরের মহকুমাশাসক সুদীপ সরকার বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার খড়্গপুরের সভা থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের সাহায্য করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ মেদিনীপুরের সভার প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার বিকেলে খড়্গপুরের রামমন্দিরে বৈঠক করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে হারের মুখ দেখতে হয়। জয়ী হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গত ৩ এপ্রিল খড়্গপুরে কলেজ ময়দানে প্রশাসনিক সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন মমতা। তারপরে চার মাস যেতে না যেতেই ফের মুখ্যমন্ত্রী শহরে এসে প্রশাসনিক সভা করবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, গত বিধানসভা ভোটের পরে খড়্গপুরে বিজেপির প্রভাব বাড়ায় নিজেদের সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে চাইছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বারবার খড়্গপুর এসে সেই বার্তাই দিতে চাইছেন। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি প্রেমচাঁদ ঝা-র কথায়, “দিলীপদা খড়্গপুরে জেতার পরে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী বারবার এখানে ছুটে আসছেন।” যদিও বিরোধীদের কটাক্ষকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। তিনি বলছেন, “খড়্গপুর শহরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই।” বর্ষায় মেদিনীপুরের সভায় যাতে দলীয় সমর্থকদের আসতে অসুবিধা না হয় সে জন্য তৎপর তৃণমূল নেতৃত্ব। অজিতবাবুর দাবি, “ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় রেকর্ড ভিড় হবে। মেদিনীপুরে ঐতিহাসিক সভা হবে।” মেদিনীপুরের সব থেকে বড় কলেজ মাঠেই সভা হবে। মেদিনীপুরের সভায় আসার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।