Advertisement
E-Paper

খোঁজ নেই বিদেশ ফেরত সতেরোর 

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ওঁদের খোঁজ চলছে। জানা গেলেই পদক্ষেপ করা হবে। গিরীশচন্দ্র বেরা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকঘুম উড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কুইক রেসপন্স টিমের। অনেকে আবার ভিন্ রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরে এলেও নিজেদের লুকিয়ে রাখছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ ০৪:১২
 ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরছেন অনেকে। ঘাটাল শহরে। নিজস্ব চিত্র

ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরছেন অনেকে। ঘাটাল শহরে। নিজস্ব চিত্র

খোঁজ নেই বিদেশ ফেরত ১৭ জন সন্দেহভাজনের।

ঘুম উড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কুইক রেসপন্স টিমের। অনেকে আবার ভিন্ রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরে এলেও নিজেদের লুকিয়ে রাখছেন। সূত্রের খবর, শুক্রবার পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ওই ১৭ জনের খোঁজ মেলেনি। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় বিদেশ ফেরতদের উপর নজরদারি চালানোর নির্দেশ রয়েছে। কুইক রেসপন্স টিমের অনুমান, ওই ১৭ জন হয়তো পরিচয় লুকিয়ে এলাকায় রয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই ১৭ জনের সকলেই করোনা-সংক্রমিত দেশ থেকে ফিরেছেন। এঁদের সম্পর্কিত ১৮টি বিষয়ের তথ্য জানার নির্দেশ এসেছে রাজ্য থেকে। এই ১৭ জনের কাউকে যে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তা রাজ্যকে জানানোও হয়েছে। ওই সূত্রে খবর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের ১১৩ জন বিদেশ ফেরতের উপরে নজরদারি চালানোর নির্দেশ এসেছে। এরমধ্যে ৯৬ জনের নাম-ঠিকানা সবিস্তার জানা সম্ভব হয়েছে। বাকি ওই ১৭ জনের শুধু নাম জানা গিয়েছে। ঠিকানা জানা যায়নি। তাই এঁদের খোঁজ পেতে সমস্যা হচ্ছে। হন্যে হয়ে ঘুরছে ওই টিম।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরার স্বীকারোক্তি, ‘‘জেলার বিভিন্ন এলাকায় ওঁদের খোঁজ চলছে। খোঁজ মিললে যে যে পদক্ষেপ করার করা হবে।’’ জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘ওঁদের কেউই হয়তো করোনা-সংক্রমিত নন। কিন্তু অন্য কোনও উপসর্গে সংক্রমিত হতেই পারেন। এই সময়ে বাড়িতে না থেকে ওঁদের ঘুরে বেড়ানো ঠিক নয়। ওই সন্দেহভাজনদের খোঁজ পেতে যত দেরি হবে, সমস্যা তত বাড়তে পারে।’’

বুধবার বিকেলে মহারাষ্ট্র থেকে ঘাটালের গ্রামে ফিরে আসেন এক যুবক। কিন্তু তিনি কোনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করিয়েই এদিক- ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার ওই যুবকের বাড়িতে যায় কুইক রেসপন্স টিম। কিন্তু বাড়ির লোকজন তাঁদের কার্যত বের করে দেয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে মহারাষ্ট্র থেকে আরেকজন যুবক ঘাটালে ফেরেন। বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাড়া খেয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার স্থানীয় পঞ্চায়েতের চাপে পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এসে তাঁকে ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটিতে নিয়ে যায়। দিন কয়েক আগে মিশর থেকে ফিরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন সোনাখালির এক যুবক। বুধবার থেকে তাঁকে বাড়িতে নজরবন্দি করেছে প্রশাসন।

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ভিন দেশ কিংবা ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসার খবর যাতে প্রশাসনের কাছে পৌঁছয়, সে জন্য লিফলেট বিলি করে প্রচার চলছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, আশা কর্মী, ভিলেজ পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ারদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরেও অনেকে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন। বাড়ি ফিরে নিজেদের মতো ওষুধ খেয়ে নিচ্ছেন। ঘাটাল ব্লকের এক আধিকারিকের ক্ষোভ, ‘‘ভিন্ রাজ্য থেকে অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। কোথাও তাঁদের আটকানো হচ্ছে না। আমাদের কাছেও খবর আসছে না। ফলে, পরীক্ষাও হচ্ছে না।” তবে এর উল্টো ছবিও রয়েছে। ভিন রাজ্যে বা বিদেশ থেকে ফিরে অনেকেই নিজে থেকে প্রশাসনকে জানাচ্ছেন।

ঘাটালের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নীশ্বর চৌধুরী বলেন, “ঘাটাল- দাসপুরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ফেরা প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করে নজরদারি শুরু করা হয়েছে। অনেকে অবশ্য অসহযোগিতা করছেন।” ঘাটালের মহকুমাশাসক অসীম পালের কথায়, “যাঁরা বাড়ি ফিরে আসছেন তাঁরা তো বাড়িতেই থাকবেন। প্রশাসনকে জানালে অসুবিধা কোথায়? বরং সুবিধা হবে।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy