করোনায় আক্রান্ত তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধের পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকেওই ৫ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পৌঁছয় জেলা স্বাস্থ্য দফতরে। ওই পাঁচজন পাঁশকুড়ার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি ছিলেন। রবিবার সকালে তাঁদের পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন মহিলা ও দু’টি শিশু রয়েছে।
এ দিকে যে পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধের পরিবারের দুই সদস্য ও বৃদ্ধের চিকিৎসায় যুক্ত স্থানীয় একজন গ্রামীণ চিকিৎসক কয়েকদিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শুক্রবার রাতে তাঁদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ জানার পর রবিবার তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধ ও তাঁর এক ভাই করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধের পরিবারের ১১ জন ও বৃদ্ধের চিকিৎসায় যুক্ত এক গ্রামীণ চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের এক সদস্য মিলিয়ে ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩ জন চিকিৎসায় করোনা মুক্ত হয়েছেন।
পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা পরিবারের গাড়ি চালক ও তাঁর সঙ্গী এবং বৃদ্ধের ভাইকে কলকাতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও তাঁর সঙ্গী এবং গ্রামীণ চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা দুজন মিলিয়ে আরও পাঁচজনকে গত ১০ এপ্রিল চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। শনিবার তাঁদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে পান ব্যবসায়ী বৃদ্ধের পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাঁদের সবাইকে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে ভর্তি করান হয়েছে। ওই পরিবারের দুই সদস্য ও এক গ্রামীণ চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসার পর তাঁদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চণ্ডীপুরে করোনা হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা নেগেটি এসেছে।’’ মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, পটাশপুরের যে দু’জন চণ্ডীপুরে করোনা হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন তাঁদেরও নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
এদিকে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে করোনা আক্রান্তদের এলাকার দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের বাইরে যাতায়াত বন্ধ করতে ও বাইরের লোকজনের ওই দুই গ্রামে ঢোকা বন্ধ করতে শুক্রবার থেকে গ্রাম দু’টি ‘সিল’ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এর জন্য শনিবার সকালে দুই গ্রামে ঢোকার প্রধান রাস্তা নোনাকুড়ি বাজার থেকে রামতারকহাটগামী গ্রামীণ সড়ক বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে রবিবার সকালে প্রশাসনের নির্দেশে সেই ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শরৎ মেট্যা বলেন, ‘‘করোনা সতর্কতায় যে দু’টি গ্রাম সিল করা হয়েছে তার সংলগ্ন অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দাদের বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের অসুবিধা হচ্ছিল। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্জি মেনে ব্যারিকেড তোলা হয়েছে। তবে ওই দুই গ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিষেধ রয়েছে।’’