পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় করোনা পরীক্ষা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম মেদিনীপুরে দিনে হাজার বারোশো জনের পরীক্ষা হত। এখন সেখানে দিনে ২০০০-২২০০ জনের পরীক্ষা হচ্ছে। দিনে গড়ে ৫০০ জনেরও বেশি সংক্রমিতের খোঁজও মিলছে। জেলাশাসক রশ্মি কমলও বলছেন, ‘‘কোভিড পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে।’’ ঝাড়গ্রাম জেলাতেও এখন দৈনিক গড়ে এক হাজার থেকে বারোশো জনের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। দৈনিক গড়ে ১৫০-এর বেশি সংক্রমিতের খোঁজ মিলছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ব্লকস্তরে, গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক শিবির করেও করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রায় প্রতিটি ব্লকে একাধিক স্থায়ী নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে।
মেদিনীপুর মেডিক্যালে ২৪ ঘণ্টাই অ্যান্টিজেন টেস্ট হচ্ছে। শহরতলিতে নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। শহরে অবশ্য এখনও ওয়ার্ড ভিত্তিক করোনা পরীক্ষা শুরু হয়নি। স্বাস্থ্য দফতরের এক সূত্রের দাবি, মেদিনীপুরের মতো শহরে ওয়ার্ড ভিত্তিক পরীক্ষা দরকার নেই। ইচ্ছুকেরা চাইলেই মেডিক্যালে এসে পরীক্ষা করাতে পারেন। জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী বলেন, ‘‘করোনা পরীক্ষার উপরে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’’ জেলাশাসক রশ্মি কমল এবং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া। জুন বলেন, ‘‘আমি চাইছি, শহরেও শিবির করে কোভিড পরীক্ষা হোক।’’ মেদিনীপুরের পুর-প্রশাসক দীনেন রায়ও বলছেন, ‘‘করোনা পরীক্ষার উপরে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।’’
খড়্গপুর শহরের ক্ষেত্রে আপাতত খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও আরটিপিসিআর পরীক্ষা চলছে। গত বছরের ধাঁচে এ বারও পুরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষার পরিকল্পনা করলেও এখনও তা চালু হয়নি। তবে এখনও বাড়ি বাড়ি পরীক্ষার কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুরসভা। অবশ্য গ্রামীণ ব্লকগুলিতে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ও গ্রামে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরীক্ষার জন্য শিবির করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সুপার স্পেশালিটি, গ্রামীণ হাসপাতালেও চলছে পরীক্ষা। গ্রামগুলিতে শিবিরে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সবংয়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাজরা বিবি বলেন, ‘‘বুথে শিবির করে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করছি। চেষ্টা হচ্ছে প্রতিটি গ্রামে পরীক্ষা করার। এর পরে বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে পরিকল্পনা করব।’’ যদিও এমন কোনও পরিকল্পনার কথা শোনাতে পারেননি স্বাস্থ্য দফতর। খড়্গপুরের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মধুনিতা বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমাদের কাছে বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি।’’ গড়বেতা ১ ব্লকের বড়মুড়া পঞ্চায়েতে দু’বার শিবির করে গ্রামবাসীদের র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। বিএমওএইচ বিকাশ সিংহ বলেন, ‘‘করোনা পরীক্ষায় গতি আনা হচ্ছে, তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’
বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা পরীক্ষা ঘাটাল মহকুমা এখনও কোথাও শুরু হয়নি। মহকুমার ঘাটাল, ক্ষীরপাই, চন্দ্রকোনা, খড়ার ও রামজীবনপুর পাঁচ পুর-এলাকাতেও কোথাও শিবির করে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থাও হয়নি। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে শিবির করে পরীক্ষা ব্যবস্থা হয়েছে। ঘাটাল মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, এখন পুর-এলাকাগুলিতে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তা ছাড়া আলাদা হবে আর করোনা পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা পুর এলাকায় শুরু করা যায়নি। ঝাড়গ্রাম জেলার ৭৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক ও ঝাড়গ্রাম পুর-এলাকার ১৮টি ওয়ার্ড ভিত্তিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া জেলার তিনটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ছ’টি গ্রামীণ হাসপাতাল ও পুরসভার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলছেন, ‘‘জেলা জুড়ে বেশি সংখ্যক করোনা পরীক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।’’
(তথ্য সহায়তা: কিংশুক গুপ্ত, বরুণ দে, রূপশঙ্কর ভট্টাচার্য, অভিজিৎ চক্রবর্তী, দেবমাল্য বাগচী, রঞ্জন পাল)