Advertisement
E-Paper

আক্রান্তের এগরা যোগ! দুই জেলার বিপরীত দাবি

এ দিন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক দাবি করেন, ওই ব্যক্তি ঝাড়গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তিনি বহুদিন ধরে এগরার বাসিন্দা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২০ ০৭:৫৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

‘গ্রিন জোন’ ঝাড়গ্রাম জেলায় সরকারি ভাবে কেউ করোনা আক্রান্ত নন। জেলা প্রশাসনের আরও দাবি, গত শুক্রবার করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসার পরে বছর চল্লিশের যে ব্যক্তিকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের বড়মা করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এগরার বাসিন্দা ছিলেন । ওই ব্যক্তির করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরে অবশ্য জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও রকম প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। জেলাশাসক আয়েষা রানি মঙ্গলবারও এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের যা করণীয়, সেটাই করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’’

এ দিন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক দাবি করেন, ওই ব্যক্তি ঝাড়গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তিনি বহুদিন ধরে এগরার বাসিন্দা। তাঁর কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ঝাড়গ্রামে থাকেন। করোনা নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি ওই স্বাস্থ্য কর্তার। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল অবশ্য একেবারেই বিপরীত কথা বলছেন। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। উনি অনেক দিন আগে এগরায় এসেছিলেন। এগরা থেকে ওঁর আক্রান্ত হওয়ার কোনও সূত্র নেই।’’ ওই ব্যক্তি বড়মা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

এ দিকে, ঝাড়গ্রাম স্বাস্থ্য দফতরের এক সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা জেলার এমন দশজনকে প্রশাসনের উদ্যোগে নিভৃতবাসে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ মহিলাও রয়েছেন। সকলের লালারসের নমুনা মেদিনীপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে, লকডাউনের মধ্যেই মঙ্গলবার মেদিনীপুরের কুইকোটা থেকে সাইকেলে দশ বছরের সম্পর্কিত নাতিকে নিয়ে এক প্রৌঢ়া সাইকেলে লালগড়ে চলে আসায় শোরগোল পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ভারতী চক্রবর্তী নামে ওই প্রৌঢ়া কুইকোটায় মেয়ে-জামাইয়ের কাছে থাকেন। লকডাউনের আগে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের অমর্ষিতে বোনঝির বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন লালগড়ের বাসিন্দা দশ বছরের সম্পর্কিত নাতি দেবনাথ রায়কে। দেবনাথের বাড়ি বাবুপাড়ায়। দেবনাথ বাড়ি ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। তাই এ দিন প্রথমে অমর্ষি থেকে ভাড়া গাড়িতে মেদিনীপুরে মেয়ের বাড়িতে আসেন ভারতী। পরে জামাইয়ের সাইকেলে ৪২ কিমি পথ উজিয়ে দুপুরে দেবনাথকে নিয়ে পৌঁছন লালগড়ে। তাঁর সম্পর্কিত ভাইপো কৃষ্ণহরি রায়ের (দেবনাথের বাবা) বাড়িতে ওঠেন। পাড়ার কলে হাতমুখও ধুয়ে নেন ভারতী। তাঁকে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার জুড়ে দেন। স্থানীয়রাই পুলিশ ও লালগড়ের বিডিওকে সব জানান। বিডিও-র হস্তক্ষেপে বিকেলে কৃষ্ণহরি ও দেবনাথকে নিভৃতবাসে পাঠানো হয়। ভারতীকে ব্লক প্রশাসনের গাড়িতে মেদিনীপুরে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতী যে কলে হাতমুখ ধুয়েছিলেন, সেটি জীবাণুমুক্ত করা হয়। জেলাশাসক জানান, ভারতীর দুই আত্মীয়কে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy