Advertisement
E-Paper

করোনা নয়, তবু সৎকারে বাধা

মেদিনীপুরের ওই করোনা হাসপাতালে এর আগে করোনা নেগেটিভ দু’জন রোগীর মৃতদেহ পরিজনেরা দাঁতন ও গড়বেতার গ্রামে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করেছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ। তা-ও মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে মৃত তরুণী রাইমণি হেমব্রমের দেহ গ্রামে নিয়ে যেতে পারলেন না পরিজনেরা। শেষে বাপের বাড়ির গ্রাম লালগড়ের দামুজানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে কংসাবতীর চরে শুক্রবার গভীর রাতে শেষকৃত্য হল।

মেদিনীপুরের ওই করোনা হাসপাতালে এর আগে করোনা নেগেটিভ দু’জন রোগীর মৃতদেহ পরিজনেরা দাঁতন ও গড়বেতার গ্রামে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করেছিলেন। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাইমণির পরিজনেদের প্রশ্ন, করোনা আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কেন এই বাধা?

রাইমণি স্বামীর সঙ্গে বিনপুরের রাঙামেটিয়া গ্রামে থাকতেন। তাঁদের স্কুল পড়ুয়া শিশুকন্যা রয়েছে। বছর খানেক ধরে কোমর ও পায়ের ব্যথায় ভুগছিলেন রাইমণি। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছিলেন। দামুজানায় বাপের বাড়িতে থাকাকালীন গত ১৮ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দিন তিনেক ভর্তি ছিলেন লালগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে বাড়ি ফিরে ফের অসুস্থ হন। গত বুধবার তাঁকে ফের লালগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান পরিজনেরা। তাঁকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটিতে ‘রেফার’ করা হয়। শ্বাসকষ্ট থাকায় ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি থেকে ওই রাতেই রাইমণিকে মেদিনীপুরের মোহনপুরের করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও শ্বাসকষ্ট থাকায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান রাইমণি।

এরপরেই দেহ নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। স্বামী বিজয় হেমব্রম রাইমণির দেহ রাঙামেটিয়ায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপত্তিকরে পুলিশ। জেলার বাইরে সৎকারের পরামর্শ দেওয়া হয়। রাইমণির জেঠতুতো দাদা গুরুচরণ মুর্মু জানান, শেষে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে লালগড়ের পুলিশ দেহ আনার অনুমতি দেয়। তবে দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। গুরুচরণ বলেন, ‘‘গ্রাম এড়িয়ে বেশ কিছুটা দূরে নদীর চরে সৎকার করতে হয়।’’ বিজয়ের আক্ষেপ, ‘‘করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও গ্রামে দেহ নিয়ে যেতে পারলাম না।’’

এ দিকে, ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটিতে তিনদিন ভর্তি থাকা এক রোগীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে শোরগোল চলছেই। করোনা পজ়িটিভ হওয়ায় তাঁকে শুক্রবার মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু করোনা আক্রান্তকে পাঠানোর কথা পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে। আর মেদিনীপুরে রাখার কথা সন্দেহভাজনদের। তাই শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধে ওই রোগী মেদিনীপুরের করোনা হসপাতালের সামনেই অ্যাম্বুল্যান্সে ছিলেন। রাতে তাঁকে বড়মায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কেন করোনা উপসর্গের ওই রোগীকে তিনদিন ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটিতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল, তার সদুত্তর অবশ্য মেলেনি। কেনই বা রাইমণির দেহ গ্রামে নিয়ে যেতে দেওয়া হল না, সেই জবাবও দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা, জেলাশাসক আয়েষা রানি ও পুলিশ সুপার অমিতকুমার ভরত রাঠৌর ফোন ধরেননি। মেসেজেরও জবাব দেননি। করোনা নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন প্রশ্ন তুলেছেন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম। তিনি বলেন, ‘‘শুনেছি জেলায় একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে মেল করে জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চেয়েছি।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy