লকডাউন চলাকালীন দিল্লি থেকে বিশেষ ট্রেনে রেলশহরে পৌঁছেছিলেন ২৮জন আরপিএফ। তাঁদের মধ্যে ৯জন রেলরক্ষী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে এই ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রেল তথা আরপিএফ কর্তাদের দাবি, খড়্গপুরে ফেরার পরেই ব্যারাকে পর্যবেক্ষণে (হোম কোয়রান্টিন) ছিলেন সকলেই। কিন্তু নিভৃতবাস (কোয়রান্টিন) কেন্দ্রে না পাঠিয়ে ব্যারাকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত কতটা ঠিক, সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন শঙ্কিত শহরবাসী।
এত দিন রেলশহরে অনেকের উপসর্গ দেখা দিলেও কেউ করোনা আক্রান্ত হননি। তবে খড়্গপুর ডিভিশনের ৯জন রেলরক্ষী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে আর সংক্রমিত এলাকার বাইরে নেই খড়্গপুর শহর। কারণ, ওই ৯জন আক্রান্তের মধ্যে ৬জন খড়্গপুর শহরেই ছিলেন। এই ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে ইতিমধ্যে আরপিএফের ডিজি অরুণ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিংহ। কী ভাবে লকডাউন সত্ত্বেও গত ১৪ এপ্রিল অস্ত্র বোঝাই বিশেষ ট্রেনে ২৮জন আরপিএফ দিল্লি থেকে খড়্গপুরে এলে সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ২৮জনকেই নিভৃতবাস কেন্দ্রে না রেখে কেন ১০জনকে কর্মস্থলে পাঠানো হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী। ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও রেলের সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার বিবেকানন্দ নারায়ণের যুক্তি, “দিল্লি থেকে খড়্গপুরে ফেরার পরেই আমাদের ওই কর্মীদের ১৮জনকে ব্যারাকে হোম কোয়রান্টিন করা হয়েছিল। বাকি কর্মীরাও কর্মস্থলে ফিরে হোম কোয়রান্টিনে ছিলেন। বালেশ্বরে একজন করোনা পজ়িটিভ হতেই বাকিদের কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আমাদের কোথাও গাফিলতি নেই।”
শহরবাসীর একাংশ অবশ্য সমাজ রেল ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ধরে পোস্ট করছেন। শহরের পদ্মপুকুরের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নবাঙ্কুর ঘোষ বলেন, “আমি পরিচিত আরপিএফ কর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি ব্যারাকে কেউ হোম কোয়ারেন্টিন ছিল না। একসঙ্গে খেয়েছে, একই শৌচাগার ব্যবহার করেছে। আমরা বিপদে পড়ে গেলাম!” শহরবাসীর দাবি, ওই আরপিএফ কনস্টেবলদের অনেকেই শহরে ঘুরেছেন। ট্রাফিকে আরপিএফ ব্যারাকে একসঙ্গে সকলে খেয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বালেশ্বরে একজন আরপিএফ কর্মী আক্রান্তের পরে বাকিদের নিভৃতবাসে পাঠানোর মাঝে ৬ দিন পেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনা নিয়ে রেলকে বিঁধেছেন খোদ খড়্গপুরের পুরপ্রধান তথা বিধায়ক প্রদীপ সরকার। তিনি বলেন, “খড়্গপুর করোনা মুক্ত ছিল। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে কী প্রয়োজন ছিল দিল্লি থেকে আরপিএফের অস্ত্র নিয়ে আসার? কেন কোয়রান্টিন কেন্দ্রে না রেখে ব্যারাকে রাখা হল? কেন ১০জন অন্যত্র কর্মস্থলে চলে গেলেন? ওই অস্ত্রগুলিও তো জীবাণুমুক্ত করা উচিত ছিল। শহরে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর পিছনে রেল দায়ী।”
এ নিয়ে রেল-রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত বেধেছে। রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের একাংশ দুষছেন রেলকে। তবে রেলের সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার বিবেকানন্দ নারায়ণ বলেন, “দিল্লি থেকে আমাদের কর্মীদের ফেরার বিষয়টি ১৫ এপ্রিল মহকুমাশাসককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।” মহকুমাশাসক বৈভব চৌধুরীর দাবি, “চিঠির তারিখ ১৫ এপ্রিল হলেও আমার অফিসে তা অনেক পরে এসেছে।” আর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “২১ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের কাছে রেল থেকে এই বিষয়ে কোনও খবর দেওয়া হয়নি।’’