মহকুমার প্রাণ কেন্দ্রে কনটেইমেন্ট ঘোষণা হওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জোগানে ঘাটতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী থেকে বাসিন্দারা। ফলে সরকারি নির্দেশিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। তাকিয়ে মহকুমা প্রশাসনও। চিহ্নিত এলাকায় বিশেষ সতর্কতায় কী করণীয় তা নিয়েই চিন্তায় পুলিশ ও পুরসভা।
জেলায় প্রথম করোনা সংক্রমণের পর ৩১ মার্চের পর থেকে নতুন করে আর সংক্রমণ ছড়ায়নি এগরায়। মহকুমার সংক্রামিত দু’জন সম্প্রতি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আগেই এগরা ও হলদিয়াকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সচেতনতা থেকে তিনটি বাজারকে ঝাটুলাল খেলার মাঠে সরানো হয়েছে। দিঘা মোড়ের রাতের আনাজের পাইকারি বাজারে ভিড় এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের আশঙ্কায় সপ্তাহে দু’দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাজারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও শহরের স্পর্শকাতর এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বেচাকেনায় ভিড় লেগেই ছিল। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার থেকে এগরা-সহ জেলার কনটেইমেন্ট এলাকার লকডাউন আরও কঠোর হল।
এগরা পুরসভার ১, ৩, ৪ নম্বর ওয়ার্ড-সহ বারোটি ওয়ার্ডকে কনটেইমেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা মেনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এই এলাকায়। মহকুমার পাইকারি আনাজ বাজারেই উপর নির্ভর করে পটাশপুর, ভগবানপুর অপরদিকে বেলদা, মোহনপুর সহ একাধিক থানা ও ভিন রাজ্যের পণ্যের জোগান। ফলে পাইকারি বাজারে ভিড় লেগে থাকে। বাজারে রাশ টানা হলে মহকুমা জুড়ে আনাজের সঙ্কট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা মেনে শহরের অতি স্পর্শকাতর এলাকায় পাইকারি আনাজ বাজারগুলিতে কী ভাবে লোকজন নিয়ন্ত্রণ করা হবে সেই চিন্তায় পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের স্পর্শকাতর এলাকায় নাকা চেকিং সহ ওয়ার্ডগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে পুলিশের তরফে। বাইরে থেকে আসা লোকজনদের নামের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
এগরার পুরপ্রধান শঙ্কর বেরা বলেন, ‘‘সরকারি ভাবে এখনও কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তাই নতুন করে কী করণীয় সেই বিষয়ে সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে যতটা সম্ভব নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।’’ এগরার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শেখ আখতার আলি বলেন, ‘‘সমস্ত জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে। পাইকারি আনাজ বাজারগুলিতে মানুষের গতিবিধি কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা সরকারি নির্দেশিকা উপর নির্ভর করছে।’’