Advertisement
E-Paper

করোনা পরীক্ষা কবে!

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মতো মহারাষ্ট্র, গুজরাত-সহ কয়েকটি এলাকা থেকে ফেরা লোকেদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের কয়েকটি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের অধিকাংশেরই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২০ ০২:২৮
প্রতীকী চিত্র

প্রতীকী চিত্র

কেউ সদ্য ভিন্‌ রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন নিভৃতবাস কেন্দ্রে। তো কেউ ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ করে ফেলেছেন— কিন্তু অনেকেই বাড়িমুখো হতে চাইছেন না। তাঁদের অভিযোগ, করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। তাই কীসের ভিত্তিতে তাঁরা নিশ্চিত মনে বাড়ি ফিরবেন!

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মতো মহারাষ্ট্র, গুজরাত-সহ কয়েকটি এলাকা থেকে ফেরা লোকেদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের কয়েকটি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের অধিকাংশেরই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। এমনকী, তাঁরা মহারাষ্ট্র থেকে ফিরলেও উপসর্গ না থাকায় পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বাড়তি দিন নিভৃতবাস কেন্দ্রগুলিতে থাকতে চাইছেন শ্রমিকেরা।

সাধারণত, বিভিন্ন এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে স্থানীয় প্রশাসন বা গ্রামবাসীদের উদ্যোগে নিভৃতবাস কেন্দ্র গড়া হয়েছে। কিন্তু বাড়তি দিন শ্রমিকেরা থাকলে সেই স্কুলে থাকার পরিকাঠামোগত খরচ কে মেটাবে, বা স্কুল স্যানিটাইজ়ই বা হবে কবে, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নন্দীগ্রামের শিবরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের খরচে একটি নিভৃতাবাস চালাচ্ছিলেন। ওই নিভৃতাবাসে প্রথমে ৪৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। অভিযোগ, নিভৃতাবাসে থাকার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের করোনা পরীক্ষা করার বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি স্বাস্থ্য দফতর। বাধ্য হয়ে পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেরা দু’বার নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল নমুনা দিতে যান। অভিযোগ, সেখানেও তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা না হওয়ায় শ্রমিকদের একাংশ বাড়ি ফিরছেন না। ওই স্কুলেই মেয়াদ পার হওয়ার পরেও বহু শ্রমিক থেকে গিয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিকের প্রশ্ন, ‘‘শরীরে করোনা রয়েছে কি না জানি না। বাড়ি ফিরে গেলে আমার থেকে পরিজনেরও করোনা হতে পারে।’’

এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায় বলেন, ‘‘মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত, দিল্লি— এই চার রাজ্য থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের সাত দিনের জন্য নিভৃতবাস কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। আর সাত দিনের মধ্যে যদি উপসর্গ না দেখা যায়, তা হলে পরের সাত দিন গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই চার রাজ্য ছাড়া অন্য রাজ্য থেকে এলে ১৪ দিনের গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকলেই হবে।’’

কিন্তু করোনা পরীক্ষা হয়নি বলে যাঁরা নিভৃতাবাস কেন্দ্রে অনেক দিন থেকে যাচ্ছেন— তাঁদের কী হবে! সুব্রতর জবাব, ‘‘উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। যদি কেউ অনুরোধ করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের লালারসে নমুনা পরীক্ষা করে দিচ্ছি।’’

এ দিকে, আগামী মাসেই উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষাগুলি হবে। সেক্ষেত্রে যদি পরিযায়ীরা না ফেরেন, তাহলেও তো সমস্যা হতে পারে। যদিও নন্দীগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই ব্লকের দু’টি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে। ওই স্কুলগুলি ইতিমধ্যেই স্যানিটাইজ় করা হয়েছে। বাকি যে স্কুলে শ্রমিকেরা রয়েছেন, সেগুলি স্যানিটাইজ় করবে কে? নন্দীগ্রাম-২ এর বিডিও সুরজিৎ রায় বলেন, ‘‘নিভৃতবাস কেন্দ্রের বা গ্রামের পক্ষ থেকে যদি কেউ ব্লক অফিসে স্কুল সানিটাইজ় করার জন্য আবেদন করেন, তা হলে ব্লক প্রশাসন সরকারি খরচে সেই কাজ করে দেবে।’’

এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিযায়ী আবার পরীক্ষা হবে না জেনে ১৪ দিনের আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তাতে স্থানীয়দেরও উদ্বেগ বাড়ছে। তমলুকে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের কাখরদা পঞ্চায়েত এলাকার একটি নিভৃতাবাস কেন্দ্রে মহারাষ্ট্র ফেরত কয়েকজনের ১৪ দিনের মেয়াদ শেষে হয়েছে মঙ্গলবার। এর পরেও তাঁদের নমুনা সংগ্রহ না করায় একই পরিবারের শিশু-সহ ৩ জন বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। একই ভাবে তমলুক পুরসভা এলাকার বিভিন্ন কোয়রান্টিন সেন্টার থেকে মহারাষ্ট্র ফেরত শ্রমিকদের একাংশও বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।

(শেষ)

Coronavirus covid 19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy