Advertisement
E-Paper

ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে বিক্রি করেছিলেন বাড়ি, ধার শোধ করতে পারেননি, কেকেআরকে হারানো মুকুলের বাবা জেলও খেটেছিলেন

ইডেনে লখনউয়ে জেতানোর পর ক্রিকেটবিশ্বের নজর মুকুল চৌধরির উপর। প্রকাশ্যে এল মুকুলকে ক্রিকেটার বানানোর জন্য তাঁর বাবার লড়াই। তিনি বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, ধার শোধ করতে না পেরে জেলও খেটেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৫
cricket

মুকুল চৌধরি। ছবি: পিটিআই।

বৃহস্পতিবার ইডেনে একার হাতে লখনউয়ে জেতানোর পর গোটা ক্রিকেটবিশ্বের নজর মুকুল চৌধরির উপর। রাজস্থানের অখ্যাত গ্রামের ক্রিকেটার কী ভাবে তাবড় বোলারদের পিটিয়ে দলকে একার হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ বার প্রকাশ্যে এল মুকুলকে ক্রিকেটার বানানোর জন্য তাঁর বাবার লড়াই। তিনি বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, ধার শোধ করতে না পেরে জেলও খেটেছেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার আস্থার দাম দিয়েছেন ছেলে।

রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার খেদারো কি ধানি গ্রামের ছেলে মুকুল। তাঁকে নিলামে ২.৬০ কোটি টাকায় কিনেছিল লখনউ। তিনি প্রথমেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বাবার যা দেনা আছে সব শোধ করে দেবেন।

মুকুলের বাবা দলীপ ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে বলেছেন, “২০০৩-এ গ্র্যাজুয়েট হই। সে বছরই বিয়ে হয়। স্বপ্ন ছিল, ছেলে হলে তাকে ক্রিকেটারই বানাব। পরের বছর ছেলে হয়। ছোটবেলাতেই ওর হাতে বল ব্যাট তুলে দিয়েছিলাম। ক্রিকেটার বানাতে যা দরকার তাই করার জন্য তৈরি ছিলাম। এত ছেলে ক্রিকেটার হলে আমার ছেলে কেন হবে না?”

Advertisement

ছ’বছর ধরে রাজস্থানের সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েও পাননি দলীপ। পরে আবাসন তৈরির ব্যবসা করলেও আর্থিক স্থিতাবস্থা ছিল না। তার মধ্যেই ২০১৬-য় ছেলেকে সিকারের এসবিএস ক্রিকহাবে ভর্তি করান। বাড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে ছিল সেই ক্লাব। ভর্তি করানোর পর দলীপ বুঝতে পারলেন তাঁর হাতে বিশেষ টাকা নেই। তিনি বাড়ি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ২১ লক্ষ টাকার পুরোটাই নিজের অ্যাকাউন্টে নিলেন যাতে সব হিসাব থাকে। পরের বছর একটি হোটেল খুলে আবার লোন নেন। সঠিক সময়ে কিস্তি দিতে না পারায় তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। তবে নিজেই স্বীকার করেছেন, কোনও দিন প্রতারণা করেননি।

দলীপ বলেছেন, “আত্মীয়েরা ছেড়ে গিয়েছিল। আমাকে পাগল বলত। ওরা বলত, ‘নিজের জীবনটা তো শেষ করে দিয়েছো। ছেলেকে তো রেহাই দাও’। আমার মুখের উপরও অনেকে বলত। এতে আমার পরিবারই শক্তিশালী হয়েছে। কঠোর কথায় আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলাম এবং বুঝেছিলাম যে আমি সঠিক পথেই হাঁটছি।”

দলীপ নিজেও ক্রিকেটার ছিলেন। তবে গ্রামের স্থানীয় প্রতিযোগিতাতেই খেলেছেন। তাঁর কথায়, “আমার আদর্শ কপিল দেব এবং সচিন তেন্ডুলকর। সচিনের ভিডিয়ো ছেলের সঙ্গে বসে দেখতাম। কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপে ধোনি জয়ের ছক্কা মারার পর আমার ছেলে ধোনির সমর্থক হয়ে গেল। আমার থেকে গ্লাভস চাইল। আমিও দিয়েছিলাম।”

বৃহস্পতিবারের আগে খুব দুঃখে ছিলেন মুকুল। দলকে জেতাতে পারতেন না বলে হতাশ হয়ে থাকতেন। এ বার সব বদলে গিয়েছে। দলীপের কথায়, “ছেলে বলত, লখনউ আমাকে এত টাকা দিয়ে কিনেছে। যদি ওদের জেতাতেই না পারি তা হলে দলে থেকে লাভ কী? বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। আমাকে প্রতিজ্ঞা করেছিল পরের ম্যাচে দলকে জিতিয়ে সকলকে গর্বিত করবে। সেই কথা ও রেখেছে।”

LSG Lucknow Super Giants KKR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy