লালারসের নমুনা দেওয়ার এক দিন পরেই শেষ হয়েছিল নিভৃতাবাসের মেয়াদ। করোনা উপসর্গ না থাকায় বাড়ি ফিরে নিশ্চিত মনে গিয়েছিলেন প্রতিবেশীর শিশুর অন্নপ্রাশনে। শুক্রবার রাতে ওই যুবকের করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর পরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের রঘুনাথপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকার এক যুবক সম্প্রতি মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুল ভবনে নিভৃতবাসে ছিলেন। গত ১০ জুন ওই যুবকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দফতর। এদিকে, নিভৃতাবাসের ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরের দিন বৃহস্পতিবার ওই যুবক বাড়িতে ফিরে অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে যান।
শুক্রবার রাতে ওই যুবকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট আসার পরেই তাঁকে পাঁশকুড়ার বড়মা করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই যুবকের দায়িত্বহীনতায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়েরা। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তার জানাচ্ছেন, বহু পরিযায়ী শ্রমিকই নিজেদের এবং পরিজনদের নিয়ে আদৌ ভাবছেন না। তাঁদের সচেতনতার অভাবই চিন্তা বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হল, লালারসের নমুনা দেওয়ার পরে রিপোর্ট না আসার আগেই রঘুনাথপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকার ওই যুবকের বাড়ি ফেরা এবং অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা। আপাতত ওই যুবকের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসা লোকজনদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
রঘুনাথপুর-১ পঞ্চায়েতের ওই যুবক ছাড়াও আরও এক যুবক এবং বল্লুক-১ পঞ্চায়েত, কাখরদা পঞ্চায়েত, ভগবানপুর-১ ব্লকের এক জন করে মোট চার জনের করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। বল্লুক-১ পঞ্চায়েতের আক্রান্ত বাসিন্দা এক জন মহিলা। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় সম্প্রতি মহারাষ্ট্র থেকে ফিরেছিলেন। ওই আত্মীয়দের মধ্যে একজনের কয়েকদিন আগেই করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট এসেছিল। অনুমান করা হচ্ছে, তাঁর সংস্পর্শে এসেই ওই মহিলা নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।
আবার, ভগবানপুর-১ ব্লকের আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজ়িটিভ আসে। শনিবার তাঁকে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের এক জন ভগবানপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আশাকর্মী। তাঁর পরিবারের মোট ১১ জনের লালারসের নমুনা এ দিন সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্যদফতর।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে দুজন পরিযায়ী শ্রমিক-সহ তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে এক জন পরিযায়ী শ্রমিকের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছে। ভগবানপুর এলাকার একজন কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিলেন। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।’’