Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

লাল মান্দার ফুলেই নামকরণ সৈকতের

সৈকত পযর্টন কেন্দ্র দিঘা নয়। গত কয়েক বছর ধরে দিঘার পাশাপাশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মন্দারমণির সৈকত। শুধু পর্যটকই নন, বাংল

সুব্রত গুহ
মন্দারমণি ১৪ জুন ২০১৫ ০০:২৭
লাল কাঁকড়ায় ভরে রয়েছে সমুদ্র সৈকত। সৌমেশ্বর মণ্ডলের তোলা ছবি।

লাল কাঁকড়ায় ভরে রয়েছে সমুদ্র সৈকত। সৌমেশ্বর মণ্ডলের তোলা ছবি।

সৈকত পযর্টন কেন্দ্র দিঘা নয়। গত কয়েক বছর ধরে দিঘার পাশাপাশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মন্দারমণির সৈকত। শুধু পর্যটকই নন, বাংলা টেলিভিশন সিরিয়াল থেকে টলিউডের ছবিরও অন্যতম ডেস্টিনেশন এখন মন্দারমণি-ই। রাজ্যের নতুন সৈকত পযর্টনকেন্দ্র হিসেবে মন্দারমণির নাম জানেন না এমন বাঙালি পযর্টক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দিগন্ত বিস্তৃত নির্জন সৈকত, সমুদ্র সফেন নীল জলরাশির মধ্য দিয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সৈকতে লাল কাঁকড়ার সারিবদ্ধ মিছিলের আকর্ষণে পযর্টকদের কাছে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্দারমণি।

দিঘা-কলকাতা সড়কপথে দিঘা যাওয়ার পথে দিঘার কিছুটা আগেই রামনগর-২ ব্লকের চাউলখোলা থেকে ডানদিকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে মন্দারমণি। রামনগর-২ ব্লকের সমুদ্রের কোল ঘেঁষা কালিন্দী গ্রামপঞ্চায়েতের দাদনপাত্রবাড়, সিলামপুর আর মন্দারমণি এই পাঁচটি মৌজা নিয়েই আজকের সৈকত পযর্টনকেন্দ্র মন্দারমণি। তবে মন্দারমণি নামটাও পযর্টকদেরই দেওয়া। মন্দারমণির আগে নাম ছিল মান্দারবণি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, জন মানবহীন সমুদ্র তীরে লাল কাঁকড়ার ভিড় আর মান্দার গাছের লাল ফুলের সমারোহের জন্যই স্থানীয় মানুষজন এলাকাটিকে মান্দারবণি বা মাঁদারবণি বলেই চিনত। যখন পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে তখনই মন্দারমণি নাম ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে মন্দারমণি সৈকতের ছবিটা কয়েক বছর আগেও এরকম ছিল না। এলাকায় বছর কুড়ি আগেও মৎস্যজীবীদের মাছশিকার করা ছাড়াও কিছু মানুষ সমুদ্রপাড়ে লঙ্কা, তরমুজ, মুলা ইত্যাদি সব্জি চাষ নিয়েই থাকতেন। তিরিশের দশকের শেষ দিকে আচার্য প্রফুল্ল রায়ের উদ্যোগে মন্দারণির কাছে দাদনপাত্রবাড়ে কলকাতার কিছু মানুষ বেঙ্গল সল্ট কোম্পানি লিমিটেড নাম দিয়ে রাজ্যের বৃহত্তম লবণ কারখানা তৈরি করেন। ২০০০ সাল থেকেই অবশ্য পাট গোটায় সেই কারখানা।

Advertisement

নব্বইয়ের দশকে বালিসাইয়ের দেবদুলাল দাসমহাপাত্র, কোলাঘাটের সুশীল বেরা মন্দারমণিতে এসে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় পুকুর কেটে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করলেন। বাগদা চাষ জমে উঠলে জনহীন এলাকায় বাগদা চাষের ভেড়ি পাহারা দেওয়া ও নিজেদের থাকার জন্য সুশীলবাবু ভেড়ির পাড়েই ‘সমুদ্র বিলাস’ নাম দিয়ে কাঠের পাটাতন দিয়ে ছোট ছোট কয়েকটি ঘর বানান। সুশীলবাবুর পরিচিতজন ও বন্ধুবান্ধবেরা মন্দারমণিতে সুশীলবাবুর কাছে এলে সেখানেই উঠতেন। আস্তে আস্তে এই সমুদ্র সৈকতের কথাও ছড়িয়ে পড়ে লোকমুখে। অবস্থা এমনই দাঁড়ায়, যখন পর্যটকদের আর সঙ্কুলান হচ্ছিল না ‘সমুদ্র বিলাস’-এ। মন্দারমণিতে পযর্টকদের ভিড় দেখে বাগদা চাষের পাশাপাশি নতুন লজ বা হোটেল তৈরি করতে এগিয়ে দেবদুলাল দাসমহাপাত্র। তৈরি করলেন ‘তরঙ্গমালা’। সমুদ্রভাঙনে বিধ্বস্ত ও ক্রমশ কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হওয়া দিঘার বদলে মন্দারমণি হয়ে উঠেছে পযর্টকদের নতুন পযর্টনকেন্দ্র।

এই সময়ই মন্দারমণিতে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে একের পর এক হোটেল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সৈকত পযর্টনকেন্দ্র দিঘাকে গোয়ার ধাঁচে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া দিঘার আশেপাশের সৈকত পযর্টন কেন্দ্রগুলিকে আরও আধুনিক ও উন্নত মানের তৈরি ঘোষণাও করেন। তার পরই মন্দারমণিতে হোটেল-লজ তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। বতর্মানে মন্দারমণি সৈকতে ৮৫টির বেশি হোটেল ও লজ হয়েছে বলে রামনগর-২ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক প্রীতম সাহা জানিয়েছেন। মন্দারমণির হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর এখানে ভিড় জমান প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ পর্যটক।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে চার বছর। এখনও পযর্টনকেন্দ্রের ন্যূনতম পরিকাঠামোই গড়ে ওঠেনি এই সৈকতে-এমনই অভিযোগ পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এমনকী হোটেল ব্যবসায়ীদেরও। মন্দারমণি যাওয়ার জন্য আজও বাস পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। নিজস্ব গাড়ি না থাকলে দিঘা-কলকাতা সড়কে চাউলখোলাতে নেমে সেখান থেকে ট্রেকার বা ইঞ্জিন রিকশায় করে পযর্টকদের মন্দারমণি যেতে হয়। মন্দারমণির প্রবীণ বাসিন্দা বলরাম মাইতির কথায়, “আগে কাঁথি থেকে দাদনপাত্রবাড় বেসরকারি বাস চলত। দীর্ঘদিন ধরে সেই বাস পরিবেষাও বন্ধ। ফলে ট্রেকার বা ইঞ্জিন রিকশাই ভরসা। সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দাম হাঁকেন তাঁরাও।’’ সমস্যাগুলো মিটলে এই সৈকতের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে বলেই বিশ্বাস বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুন

Advertisement