Advertisement
E-Paper

পরীক্ষায় নারাজ! অধরা ‘দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা’

পরিযায়ীরা জেলায় ঢোকার সময় তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। যাঁদের করোনা উপসর্গ ছিল তাঁদের তৎক্ষণাৎ লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ ০৫:৫০
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে আসার পর জেলায় করোনা সংক্রমণ এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। অথচ বহু পরিযায়ী শ্রমিকেরাই নানা অজুহাতে লালারসের নমুনা দিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ। বিষয়টি ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের।

মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরতে শুরু করেছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। এখনও পর্যন্ত ন’হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। পরিযায়ীরা জেলায় ঢোকার সময় তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। যাঁদের করোনা উপসর্গ ছিল তাঁদের তৎক্ষণাৎ লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু যাঁদের কোনও উপসর্গ ছিল না তাঁদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দফতর। পরে স্থানীয় আশাকর্মীদের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা কোনও রাজ্য থেকে ফিরেছে, তাঁর পেশা কী— ইত্যাদি তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। সেই তথ্য অনুযায়ী করোনা উপদ্রুত রাজ্য ও করোনা সম্ভাবনাময় পেশা থেকে ফেরা পরিযায়ীদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে ডেকে পাঠানো হচ্ছে লালারসের নমুনা সংগ্রহের জন্য।

ওই কাজের জন্য স্থানীয় আশাকর্মীদের দিয়ে খবর পাঠানোর পাশাপাশি, পরিযায়ীদের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও ডাকা হচ্ছে। লালারসের নমুনা নেওয়ার আগে কোন দিন কাদের ডাকা হবে, তাঁদের নাম এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রতিটি ব্লক স্বাস্থ্য দফতর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করলেই পরিযায়ীর মোবাইলে চলে আসছে একটি ম্যাসেজ। কিন্তু অভিযোগ, এত কিছু করার পরও লালারসের নমুনা দিতে আসায় গরহাজিরা বাড়ছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, করোনা উপসর্গ নেই— এই অজুহাতে বহু পরিযায়ী শ্রমিক নমুনা দিতে আসছেন না। আশা এবং এএনএম কর্মীরা গৃহ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিভৃতবাস কেন্দ্রে গিয়ে পরিযায়ীদের লালারসের নমুনা দিতে যাওয়ার তারিখ জানাতে গেলে, দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। ওই ধরনের পরিযায়ী শ্রমিকদের যুক্তি, তাঁদের শরীরে কোনও রকম করোনার উপসর্গ নেই। তাই পরীক্ষা করাতে তাঁরা যাবেন না। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যাই জেলায় সব থেকে বেশি। পরিযায়ীদের একাংশ এই মনোভাব নিলে গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। যা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ওই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। আর এর ফলে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা প্রতিদিন যে সংখ্যায় লালারস সংগ্রহ করতে চাইছেন, তা পূরণ করা যাচ্ছে না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘কোথাও কোথাও এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। পরীক্ষায় করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়লে জানাজানি হয়ে যাবে, এই আশঙ্কাতেও অনেকে পরীক্ষা করাতে আসছেন না। আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয়ভাবে পরিযায়ীদের বুঝিয়ে করোনা উপসর্গযুক্ত এবং করোনা উপদ্রুত এলাকা থেকে ফিরে আসা সবার পরীক্ষা করানোর। এখনও পর্যন্ত জেলায় ১৪ হাজারের কিছু বেশি করোনা পরীক্ষা হয়েছে।’’

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy