Advertisement
E-Paper

ফের পালাব, আগাম বলেই চম্পট কর্ণের

বৃহস্পতিবার কাঁথি আদালত চত্বর থেকে গুলি ছুড়ে, বোমা ফাটিয়ে পুলিশকে জখম করে পালিয়েওছিল সে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিশের নাছোড় চেষ্টায় ফের গারদের পিছনে কর্ণ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এ যাত্রায় মুখ রক্ষা হলেও কর্ণের জেল পালানোর কিসসা যে পুলিশের অজানা ছিল তা নয়। কিন্তু কে এই কর্ণ ?

শান্তনু বেরা

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৩১
আদালত চত্বরে কর্ণ-বাহিনীর বোমা-গুলিতে জখম পুলিশ কর্মী। বৃহস্পতিবার কাঁথিতে। নিজস্ব চিত্র

আদালত চত্বরে কর্ণ-বাহিনীর বোমা-গুলিতে জখম পুলিশ কর্মী। বৃহস্পতিবার কাঁথিতে। নিজস্ব চিত্র

সময়টা ২০১৭ সালের ১৩ মে। কাঁথি সংশোধনাগার থেকে পালানো ব্যাঙ্ক ডাকাতিতে অভিযুক্ত কর্ণ বেরা ধরা পড়েছিল কাঁথি থানার পুলিশের হাতে। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুলিশকে হুঙ্কার দিয়েছিল, ‘ফের পালাব জেল থেকে’।

সেই ‘কথা রাখতে’ বৃহস্পতিবার কাঁথি আদালত চত্বর থেকে গুলি ছুড়ে, বোমা ফাটিয়ে পুলিশকে জখম করে পালিয়েওছিল সে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিশের নাছোড় চেষ্টায় ফের গারদের পিছনে কর্ণ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এ যাত্রায় মুখ রক্ষা হলেও কর্ণের জেল পালানোর কিসসা যে পুলিশের অজানা ছিল তা নয়। কিন্তু কে এই কর্ণ ?

জুনপুট উপকূল থানার মজিলাপুরের বাসিন্দা বছর তেত্রিশের এক যুবক। গায়ের রং চাপা। রোগা-পাতলা চেহারা। ব্যাঙ্কডাকাতি, পুলিশ কনস্টেবলকে খুন, পেট্রল পাম্পে ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০৬ সালে কাঁথি উপ সংশোধনাগার থেকে রাজমিস্ত্রির বাঁধা বাঁশের ভাড়া বেয়ে পালায় সে। তবে পুলিশের হাতে সে দিনই সে ধরা পড়ে সে। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি মামলায় কাঁথি আদালতে অন্যান্য কয়েদিদের সঙ্গে কর্ণকে এনেছিল পুলিশ। কিন্তু গাড়ি থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে পুলিশ কর্মীদের ঠেলে আদালত ভবন টপকে চম্পট দিয়েছিল সে। সেই সময়েই কাঁথি ও চণ্ডীপুরের দুটি পেট্রল পাম্পে ডাকাতির মামলায় তার নাম জড়ায়। ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে মহিষাদলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল নবকুমার হাইতকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

পালানোর পালা
• ২০০৬ সালে কাঁথি উপ সংশোধনাগার থেকে রাজমিস্ত্রির বাঁধা বাঁশের ভাড়া বেয়ে পালায় সে। অবশ্য সেই দিনই তাকে পাকড়াও করেছিল কাঁথি থানার পুলিশ।

• ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি মামলায় কর্ণকে গাড়ি করে কাঁথি আদালতে এনেছিল পুলিশ। গাড়ি থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে পুলিশ কর্মীদের ঠেলে পালিয়ে ছিল কাঁথি ও চণ্ডীপুরের দুটি পেট্রল পাম্প ডাকাতির মামলায় অভিয়ুক্ত সে।

• ২০১৬ সালে কাঁথি উপ সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে ছিলেন কর্ণ। রাজমিস্ত্রির বাঁধা বাঁশের ভাড়া বেয়ে পালায় সে। তবে সে দিনই তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।

• ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে মহিষাদলে পুলিশ কনস্টেবল নবকুমার হাইতকে গুলি করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত। পরে কয়েকদিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে সে ধরা পড়ে।

• ২০১৭ সালের ১ মে রাতে কাঁথি সংশোধনাগার থেকে পালায়। ধরা পড়ে ১৩ মে।

তদন্তে নেমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থেকে তাকে ফের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বার তার ঠাঁই হয় হলদিয়া সংশোধনাগারে। ২০১৭ সালে মারিশদার একটি ব্যাঙ্ক ডাকাতির মামলায় কাঁথি সংশোধনাগারে আনা হয় তাকে। ৮ মে কাঁথি আদালতে তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ১ মে কয়েদিদের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাতে সংশোধনাগারের জানালার রড কেটে পালায় কর্ণ। পুলিশের নজর এড়াতে দিঘা, মন্দারমনি, হাওড়া ও পুরী-সহ নানা জায়গায় গা ঢাকা দিয়েছিল। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে মাথা কামিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৩ মে তাকে কাঁথি থানার পুলিশ তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ বার তাকে রাখা হয় মেদিনীপুর সংশোধনাগারে।

এদিন সেখান থেকেই তাকে কাঁথি আদালতে আনা হয়েছিল। কিন্তু বার বার পালানোর রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন এমন দাগী অপরাধীকে আরও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়নি সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এ দিন কর্ণের সঙ্গে পালানো শেখ সিরাজ ওরফে মুন্নাও দাগী অপরাধী। সেও একাধিকবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিল। মেদিনীপুর সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে খড়গপুরের রেল ক্রসিংয়ের কাছে পুলিশের চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দিয়ে পালিয়েছিল মুন্না। পরে তাকে পুলিশ ধরে। বৃহস্পতিবারেও কাঁথি আদালত থেকে পালানোর সময় কর্ণ ও মুন্নারা লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কর্ণ ধরা পড়লেও মুন্না ও বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জোর তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তারা কাঁথি শহরেই রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। শহরবাসীকে তা নিয়ে সতর্ক করতে রাত পর্যন্ত মাইকিং করে পুলিশ।

Karna Bera History Sheeter Escape Jail Prison
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy