Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

দু’বছর পরে বাড়ি ফিরল কুষ্ঠমুক্ত কিশোর

সৌমেশ্বর মণ্ডল
মেদিনীপুর ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:১০

সংসারে অভাব। বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীরেই সাইকেলের দোকানে কাজ করতে হতো। সেই কষ্ট সহ্য হয়নি বছর পনেরোর সুরেশ যাদবের (নাম পরিবর্তিত)। বছর দু’য়েক আগে বিহারের ভোজপুর থেকে ট্রেনে খড়্গপুরে পালিয়ে এসেছিল সে। মেদিনীপুর শিশু কল্যাণ কমিটির সহায়তায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সম্প্রতি বাড়ি ফিরল সুরেশ।

২০১৬ সালের জুনে জিআরপি সুরেশকে খড়্গপুর স্টেশন থেকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয়। ওই সময় জানা যায়, সে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত। জেলা শিশু সুরক্ষা এবং শিশু কল্যাণ কমিটির উদ্যোগে সুরেশকে ভর্তি করানো হয় খড়্গপুরের চামরুসাইয়ের ‘মিশনারি অফ চ্যারিটি মাদার টেরিজা লেপ্রসি সেন্টারে’। সেখানে চলতে থাকে সুরেশের চিকিৎসা।

এর মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর চাইল্ড লাইনের কর্মীরা সুরেশের বাড়ির ঠিকানা এবং পরিজনের খোঁজ করতে থাকেন। বেশ কয়েক মাস পরে পরিজনের সন্ধান মেলে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিহার থেকে সুরেশের বাড়ির লোক খড়্গপুরে আসেন। তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন তাঁরা। কিন্তু চিকিৎসার মাঝপথে বাড়ি ফিরলে সুরেশ সুস্থ হবে না, এই আশঙ্কায় ওই সময় আসরে নামে মেদিনীপুর শিশু কল্যাণ কমিটি। কমিটির চেয়্যারম্যান মৌ রায় বলেন, ‘‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনে মতে এক বছর নিয়ম মেনে চিকিৎসা করালে কুষ্ঠ রোগ সেরে যায়। ছ’মাস চিকিৎসার পর সুরেশ বাড়ি ফিরলে পুরোপুরি সুস্থ হবে না। তাই আমরা ওর বাড়ির লোকদের বোঝাই, অনুরোধ করি এক বছরের চিকিৎসা সম্পূর্ণ হোক। সুস্থ হয়ে সুরেশ বাড়ি ফিরে যাক।’’ কমিটির কথা মেনে সুরেশের পরিজন সে সময় বাড়ি ফিরে যান।

Advertisement

এক বছর চিকিৎসার পর সুরেশ বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ। ‘মিশনারি অফ চ্যারিটি মাদার টেরিজা লেপ্রসি সেন্টারে’র পক্ষ থেকে ব্রাদার পসচাল বলেন, ‘‘সুরেশ মাল্টি বেসিলারি ধরনের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিল। এক বছর চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়েছে।’’ বৃহস্পতিবার সুরেশকে শিশু কল্যাণ কমিটির হাতে তুলে দেন তাঁরা। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক (অপ্রাতিষ্ঠানিক) জয়ন্ত সিংহ এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘ছেলেটিকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরাতে পেরে আমরা খুশি।’’

খুশি সুরেশও। বাড়ি ফেরার সময় সে জানায়, ‘‘সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছি। গিয়ে আবার কাজ শুরু করব।’’

আরও পড়ুন

Advertisement