E-Paper

বর্ষার শুরুতেই বাঁধে গর্ত, বন্যার শঙ্কা

কংসাবতী নদীর বাঁধে গর্ত-ফাটল নদীর জলের চাপে বড় হয়ে বাঁধ ভেঙে দিয়েছে একাধিক বার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০
ডোমঘাটে বাঁধের রাস্তায় গর্ত।

ডোমঘাটে বাঁধের রাস্তায় গর্ত। নিজস্ব চিত্র ।

বর্ষা নামতেই বাঁধের রাস্তায় বড় গর্ত। ছবিটা অচেনা নয় পাঁশকুড়াবাসীর কাছে। তাতেই তাঁদের মনে ভয়— বৃষ্টি বাড়লে এমন গর্ত থেকেই ফের বাঁধ ভাঙবে না তো!

কংসাবতীর বাঁধ বরাবর রয়েছে পাঁশকুড়া-শ্রীরামপুর রাস্তা। গাড়ি চলাচলে দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা বেহাল। পাঁশকুড়ার প্রতাপপুর-২ পঞ্চায়েত এলাকার ডোমঘাটে এই রাস্তাতেই হঠাৎ করে তিন ফুটের মতো গভীর এবং আকারে বড় গর্ত দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই বাঁধের রাস্তায় ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করলেও তাঁদের শঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে নদীতে জল বাড়লে ডোমঘাট এলাকায় বাঁধ ভাঙতে পারে। যদিও পাঁশকুড়া ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘ডোমঘাটের কাছে নদী বাঁধে তৈরি হওয়া গর্ত আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত তা মেরামত করে নদী বাঁধকে সুরক্ষিত করার কাজ চলছে।’’

উল্লেখ্য, কংসাবতী নদীর বাঁধে গর্ত-ফাটল নদীর জলের চাপে বড় হয়ে বাঁধ ভেঙে দিয়েছে একাধিক বার। পাঁশকুড়ার গড় পুরুষোত্তমপুরে ২০১৩ সালে বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছিল। এর পরে ২০২৪ সালে ফের মানুর, গড় পুরুষোত্তমপুর, উদয়পুর ও জাঁদড়ায় কংসাবতীর বাঁধ ভাঙে। এর পরে গত বছর ফের মানুর এলাকাতেই বাঁধের ওপর থাকা একটি বাড়ির নীচে হওয়া ফটল দিয়ে নদীর জল বেরোতে শুরু করেছিল। সাত দিনের চেষ্টায় বাঁধের ভাঙন রোখা গেলেও বাঁচানো যায়নি গোবিন্দনগর পঞ্চায়েত এলাকার কৃষি জমি। এ ছাড়া, বাঁধে অবৈধ নির্মাণেও লাগাম দেওয়া যায়নি। এতে প্রতি বছরই নতুন নতুন জায়গায় বিপজ্জনক ভাবে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন এ বার দেখা গিয়েছে ডোমঘাটে।

এ বার যেখানে গর্ত হয়েছে, সেখান থেকে ২০১৩ সালে গড় পুরুষোত্তমপুরের ভাঙনের স্থান মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূর। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাঁধের গায়ে বেআইনি নির্মাণের জন্য ডোমঘাট এলাকায় ফাটল সংস্কারে সমস্যায় পড়তে হয় সেচ দফতরকে। আর ঝিকুরিয়া থেকে হরিনারায়ণ চক পর্যন্ত বাঁধের ধারেই কয়েকশো নির্মাণের কারণে বাঁধ পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে ব্যর্থ দফতর। তাই বর্ষার শুরুতেই গর্ত তৈরি হওয়ায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাস্তার উপরে পিচ থাকায় সহজে বোঝা যাচ্ছে না গর্তটি বাঁধের কতটা ক্ষতি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলি খান বলেন, ‘‘প্রতাপপুর থেকে হরিনারায়ণ চক পর্যন্ত বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হলে জল বাড়লে বন্যা নিশ্চিত।’’ জেলার বন্যা ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির তরফে নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘‘প্রতাপপুর থেকে হরিনারায়ণ চক পর্যন্ত বাঁধে একাধিক বেআইনি বাড়ি ও দোকান রয়েছে। হাজার হাজার কংক্রিটের পিলার গড়ে ওঠায় বাঁধ রীতিমতো দুর্বল হয়েছে। দ্রুত ওই এলাকার বাঁধ সংস্কার না হলে সমস্যা বাড়বে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Panskura

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy