বৃষ্টির রাতে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মাঠে মাছ ধরতে গিয়েছিল এক কিশোর। সেখানে কাঁটা বেঁধার মতো কিছু বিঁধেছিল। গুরুত্ব দেয়নি সে। রাতে শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, সাপে ছোবল মেরেছে তাকে। বর্তমানে ওই নাবালককে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পটাশপুরে পশ্চিমজলির ঘটনা।
বর্ষায় কই, শিঙি, শোলের মতো জিওল মাছ পুকুর, ডোবা থেকে মাঠে চলে যায়। মাছ ধরতে মাঠে যান অনেকে। শনিবার বিকেলের বৃষ্টিতে পশ্চিমজলির মাঠে মাছ উঠেছিল। সন্ধ্যায় গ্রামের বছর চোদ্দোর সুরজিৎ মণ্ডল সঙ্গীদের সঙ্গে মাঠে মাছ ধরছিল। সেই সময় জলের মধ্যে কাঁটার মতো বিঁধেছে বলে সে সঙ্গীদের জানিয়েছিল। সঙ্গীরা টর্চের আলোয় খুঁজেও কিছু দেখতে পায়নি। শিঙি মাছে কাঁটা বিঁধিয়েছে বলে মনে হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি কিশোর।
বাড়িতেও শিঙি মাছের কাঁটা বেঁধায় যন্ত্রণা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল ছেলেটি। কিন্তু কাঁটা বেঁধার জায়গা ভাল করে দেখা হয়নি। গভীর রাতে সারা শরীরে যন্ত্রণায় হতে থাকে ছেলেটির। পা ফুলে ওঠে। কিশোরকে পটাশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা প্রতিষেধক দেন। কিন্তু অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাতেই তাকে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাত ১টা নাগাদ কিশোরকে এখানে আনা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা অ্যান্টিভেনাম দেন। পরে কিশোরকে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাপে ছোবল দেওয়ার পরে প্রথম ১০০ মিনিট খুব জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও লক্ষণ না বোঝা গেলেও স্থানীয় হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষা করানো দরকার। বৃষ্টির রাতে মাছ ধরা নিয়ে সতর্ক করছেন পরিবেশকর্মীরা। পটাশপুর-১ জীববৈচিত্র কমিটির সম্পাদক সোমনাথ দাস অধিকারী বলেন, ‘‘এই সময় মাছের সন্ধানে বিষধর সাপও পুকুর, ডোবার পাড়ে ঘুরে বেড়ায়। মাছ ধরতে যাওয়া সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।’’
সাপের ছোবলের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দয়ালবন্ধু মজুমদার বলেন, ‘‘যে কোনও কাঁটা ফোঁটা বা কামড়ের কিছু বুঝতে পারলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে যেতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলগুলোতে এই সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে এই ঘটনা চলতে থাকবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)