Advertisement
E-Paper

রাজস্বের গুড় যাচ্ছে চুরিতেই

চোখের সামনেই চলছে অনিয়ম। হুকিং করে বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ গেরস্তের বাড়ি তো বটেই শাসকদলের পার্টি অফিসেও আলো জ্বলছে, ঘুরছে পাখা। বর্ষায় হুকিংয়ের তারে বিপদ বাড়ছে। ঘটছে মৃত্যুও। তারপরেও কী করছে বিদ্যুৎ দফতর— খোঁজ নিল আনন্দবাজার।চোখের সামনেই চলছে অনিয়ম। হুকিং করে বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ গেরস্তের বাড়ি তো বটেই শাসকদলের পার্টি অফিসেও আলো জ্বলছে, ঘুরছে পাখা। বর্ষায় হুকিংয়ের তারে বিপদ বাড়ছে। ঘটছে মৃত্যুও। তারপরেও কী করছে বিদ্যুৎ দফতর— খোঁজ নিল আনন্দবাজার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০১৮ ০৭:০০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রে রাজস্ব বাড়াতে হবে। তাই হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরি রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতা রয়েছে রাজ্যের প্রায় সব জেলায়। কিন্তু শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক দিক থেকে এগিয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরে বিদ্যুৎ চুরির বহরে উদ্বিগ্ন রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর। জেলার বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চুরি প্রায় শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

এর ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই বিদ্যুতের লাইন থেকে হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির জেরে দুর্ঘটনা এমনকী মৃত্যুর ঘটনারও বিরাম নেই।

বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া ও এগরা— চারটি ডিভিশন রয়েছে বিদ্যুৎ দফতরের। প্রতি ডিভিশনে নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক কয়েকটি স্টেশন ম্যানেজারের অফিস রয়েছে। এই সব এলাকা ভিত্তিক গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বিদ্যুত বিল নেওয়া হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে। কিন্তু বিদ্যুৎ দফতরের রাজস্ব আদায়ের মাসিক হিসাবে দেখা গিয়েছে জেলার কিছু এলাকায় সরবরাহ করা বিদ্যুতের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অনেক কম। ব্যাপক হারে হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির পাশাপাশি মিটারে কারচুপি করার ফলেও এমনটা হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের অভিযোগ।

দফতরের হিসাবে, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে যান্ত্রিক কারণে ৫থেকে ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ নষ্ট হওয়ায় রাজস্বের কিছু ক্ষতি হয়। কিন্তু বেশি ক্ষতি হয় হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির জেরে। পূর্ব মেদিনীপুরে বিদ্যুৎ দফতরের চলতি বছরে জুন মাসের যে মাসিক রাজস্ব ক্ষতির হিসাব পাওয়া গিয়েছে তাতে ব্যাপক ভাবে বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতা ধরা পড়ছে বলে অভিযোগ।

দফতরের হিসাবে জেলায় সরবরাহ করা বিদ্যুতের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ গড়ে ৪২.৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে প্রায় ৪৩ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বিদ্যুৎ দফতরের। অর্থাৎ আদায় হচ্ছে মাত্র ৫৭ টাকা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এগরা ডিভিশনের পটাশপুর, বালিঘাই, চোরপালিয়া, এগরা, ভগবানপুর এবং কাঁথি ডিভিশনের খেজুরি, মারিশদা, তমলুক ডিভিশনে পাঁশকুড়া, প্রতাপপুর ও হলদিয়া ডিভিশনের নন্দীগ্রাম এলাকায়।

বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের মতে, জেলার পটাশপুর, বালিঘাই, চোরপালিয়া, ভগবানপুর, এগরা, খেদুরি, মারিশদা, পাঁশকুড়া, প্রতাপপুর ও নন্দীগ্রাম এলাকায় ব্যাপকহারে বিদ্যুৎ চুরির জেরেই দফতরের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের রিজিওনাল ম্যানেজার শ্যামলকুমার হাজরা বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ চুরির জেরে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। হুকিং রুখতে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি পঞ্চায়েত স্তরে বিদ্যুৎ দফতরের উদ্যোগে পরিষেবা মেলা আয়োজন করে গ্রাহকদের সচেতন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি আটকাতে বিদ্যুতের লাইনে বিশেষ কেবল লাগানো হচ্ছে।’’

Mamata Banerjee মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Hoocking
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy